হরিয়ানা সরকারের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপার এবং ডিএমদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে কিছু নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই নামগুলি যাচাই করে জানাতে হবে।

মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 22 July 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের একাধিক রাজ্য বাংলা ভাষাভাষীদের অপমান করা হচ্ছে বলে আগেই গর্জে উঠেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার তাঁর অভিযোগ, বিজেপি দেশে ভাষা সন্ত্রাস (Language Row) চালাতে চাইছে। সোমবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে গেরুয়া শিবিরকে এই ইস্যুতে ফের আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফরেনার্স ট্রাইবুনাল থেকে সরাসরি চিঠি এসে পৌঁছেছে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায়। এমনটাই জানিয়েছেন মমতা। সাংবাদিকদের অবগত করে তিনি বলেন, ১৯ ও ২৫ জুলাই কোকরাঝাড়ের ট্রাইবুনাল থেকে দু’টি চিঠি পাঠানো হয়েছে এক দম্পতিকে উদ্দেশ্য করে। তাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার আরও একটি কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা ঘিরে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। সেই নিয়েও নবান্ন থেকে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, ''হরিয়ানা সরকারের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপার এবং ডিএমদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে কিছু নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই নামগুলি যাচাই করে জানাতে হবে। ওরা কী বাংলা দখল করতে চাইছে? এখানে কি ভাষা সন্ত্রাস চলছে? এভাবে জেলা বেছে বেছে মানুষদের সঙ্কটে ফেলার চেষ্টা চলছে।''
যে নির্দেশিকার কথা বলা হচ্ছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে — মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, উত্তর ২৪ পরগনার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ৫২ জনের নাম, ঠিকানা যাচাই করে পাঠাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশকে সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন, “এটা কি ভাষা সন্ত্রাস? এবার তো একেবারে বেছে বেছে করা হচ্ছে। কে কোন জেলার মানুষ, কে কবে এসেছেন — সব যাচাই করে দেশভাগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দেশের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকার নিজেদের চরকায় তেল দিন। কালী মন্দির ভেঙে দিয়েছেন, ডিটেনশন ক্যাম্পে মানুষকে আটকে রেখেছেন। এভাবে চললে দেশ ভাগ হয়ে যেতে পারে।” তাঁর হুঁশিয়ারি, “যদি কেউ ভাবেন এসব করে বাংলায় দিল্লির মতো ক্ষমতায় আসবেন, তাহলে বলব — গতকাল রাজপথে জনবিস্ফোরণ হয়েছে, মানুষ তাঁদের জবাব দিয়েছে। কেউ ভয় পাবেন না, আমাদের কাজ আমরা করব, মানুষের পাশে থাকব।”