কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা বা অপাঠ্য ছবির মতো নথি আপলোড হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 13 February 2026 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী মাসের গোড়ায় ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার-সহ কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের রাজ্য সফরের আগে প্রশাসনিক স্তরে কড়া বার্তা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commssion)। শুক্রবার জেলাশাসক (ডিএম), মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO), বিশেষ পর্যবেক্ষক (Special Roll Observer) ও রোল পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকে একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়। সেই বৈঠকের মূল পয়েন্টগুলিই পরে চিঠি আকারে জানানো হয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা বা অপাঠ্য ছবির মতো নথি আপলোড হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তা সব ডিএম ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের দেখানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে— এই নথি কারা আপলোড করল, কীভাবে তা যাচাই হল এবং কেনই বা তা গ্রহণ করা হল?
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দিষ্ট করে যে নথির কথা বলেছে, কেবল সেগুলিই বিবেচনা করতে পারবেন ইআরও ও এইআরওরা। ‘মনগড়া’ বা অনুমোদনহীন নথি গ্রহণযোগ্য নয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ডিএমদের ব্যক্তিগত ভাবে নিতে হবে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও)-কে নিজে যাচাই করে নিশ্চিত করতে হবে যে আপলোড হওয়া সব নথিই অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী। সময়সীমার পর সিস্টেমে একটি বেআইনি নথিও পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিএমকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে। আইটি টিমকেও এ বিষয়ে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়ে রেখেছে, প্রতিটি নথি ও সিদ্ধান্ত বহু বছর সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। এক, দুই বা পাঁচ বছর পরও যদি কোনও ‘বিদেশি’ নাগরিকের নাম তালিকায় থাকার ঘটনা ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের কথা মাথায় রেখে বিষয়টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের গাফিলতির জন্য বিশেষ ভাবে তিরস্কার করা হয়। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে ‘রাজনৈতিক মন্তব্য’ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের ডিএমকে নথি আপলোডে বিলম্বের জন্য ভর্ৎসনা করা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন কর্তৃত্বে ইআরও ও এইআরওরা ইআরএমওদের ডেকেছেন।
সব পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইআরও, এইআরও ও ডিইওদের কোনও গাফিলতি চোখে পড়লে তা সরাসরি কমিশনের নজরে আনতে হবে। পাশাপাশি সিইও-কে বলা হয়েছে, অগ্রহণযোগ্য বা অপাঠ্য নথি যাচাইয়ের ঘটনা সামনে এলে তা অবিলম্বে কমিশনে পাঠাতে, যাতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
উপনির্বাচন কমিশনারদের আসন্ন সফরের আগে প্রশাসনিক স্তরে এই কড়াকড়ি যে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে, তা মানছেন অনেকেই। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কবার্তা বলে দাবি কমিশনের।