তাঁর কথায়, “আমাদের যে ফর্ম সেভেন জমা দেওয়া যায়নি, সেটা জমা দিতে হবে। বাংলার মানুষকে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার মধ্যেই পড়ে। আমরা আশা রাখি, কমিশন সেই দায়িত্ব পালন করবে।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 February 2026 10:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার (voter list issue) বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা শেষ হয়নি। উল্টে কমিশনের তরফে সময় চাওয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। এই আবহেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) করা মামলার শুনানি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (BJP state president, Samik Bhattachariya) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “নো এসআইআর, নো ভোট (No SIR, No Vote)। এসআইআর সম্পূর্ণ করেই নির্বাচনে যেতে হবে।”
এখানেই থামেননি তিনি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে চাপ বাড়িয়ে তাঁর আর্জি, “আবার বলছি, জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar, ECI) আপনি কলকাতায় আসুন। পশ্চিমবঙ্গ নিজে ঘুরে দেখুন।” প্রসঙ্গত, এর আগেও এই দাবি করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, কে কার নাম কাটল বা কে ঢোকাল—এই বিতর্কে বিজেপির আগ্রহ নেই। তাঁর কথায়, “আমাদের যে ফর্ম সেভেন জমা দেওয়া যায়নি, সেটা জমা দিতে হবে। বাংলার মানুষকে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার মধ্যেই পড়ে। আমরা আশা রাখি, কমিশন সেই দায়িত্ব পালন করবে।”
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। সেদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এই ঘটনাকে অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি।
এ প্রসঙ্গে শমীকের কটাক্ষ, “মুখ্যমন্ত্রীর মামলা নিয়ে আমাদের কোনও উৎসাহ নেই। ওরা গোটা প্রক্রিয়াটাই নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ওদের লক্ষ্য—রোহিঙ্গায় ভরা পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করানো।”
নিজের অভিযোগের সপক্ষে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে শমীক প্রশ্ন তোলেন, “এই সব ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব কার? এটা রাজ্যের কাজ, কেন্দ্রের নয়।” তাঁর দাবি, সর্বত্র একটি ‘র্যাকেট’ কাজ করছে।
ভোটার তালিকার কারচুপি নিয়ে কটাক্ষের সুরে শমীক বলেন, “মহাভারতে একজন ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন। বাংলার ভোটার লিস্টে একাধিক ধৃতরাষ্ট্র পাওয়া গেছে, যাঁদের নাকি ১০০ জন করে সন্তান! কেউ কেউ ৪০ বছরেই দাদু হয়ে গেছেন, আবার নাতি ২২ বছরের ভোটার। এটা শুধু এই রাজ্যেই সম্ভব—এগিয়ে বাংলা!”