বৃহস্পতিবারই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর এই সংক্রান্ত অষ্টম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নতুন করে আরও তিন লক্ষ নামের জট কেটেছে।
.jpeg.webp)
সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 2 April 2026 20:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটার তালিকার (West Bengal Assembly Election 2026) বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে চলা টানাপড়েনের মাঝে খানিকটা স্বস্তির খবর শোনাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বৃহস্পতিবার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিবেচনাধীন (অ্যাডজুডিকেশন) তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫২ লক্ষের নাম নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবারই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর এই সংক্রান্ত অষ্টম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নতুন করে আরও তিন লক্ষ নামের জট কেটেছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে আর প্রায় আট লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে পড়ে রয়েছে। তবে উদ্বেগের কারণ নেই বলেই আশ্বস্ত করেছে কমিশন। জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যেই এই বাকি নামগুলির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তবে এই বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে ঠিক কত জনের নাম শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় থাকল আর কত জনের বাদ পড়ল, সেই চিত্রটি এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন যখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল, তখন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ছিল বিবেচনাধীন তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মোট ৭০৫ জন বিচারক এই বিপুল সংখ্যক নামের বিচার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। গত ২৩ মার্চ রাত থেকে দফায় দফায় এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ শুরু করেছে সিইও দফতর। কমিশন সূত্রে খবর, বিচারকদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করতে গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগছে।
বিবেচনাধীন ভোটারদের এই তালিকা নিয়ে অবশ্য রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের শেষ নেই। গত বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্যরাতে কমিশনের ওয়েবসাইটে সমস্ত ভোটারের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় দেখানো নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছিলেন। শাসকদলের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবে বিরোধীদের ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টা চলছে। এই ক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে জেলাস্তরেও।
বুধবার মালদহের কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের অফিসে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে রাতভর আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টই এই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। জানিয়েছিল, সিবিআই অথবা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এর পরেই সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।