বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে খোদ সিইও দফতরের সামনে এ হেন বিশৃঙ্খলা নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিল নির্বাচন কমিশন।
.jpeg.webp)
সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 2 April 2026 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতভর সিইও মনোজ আগরওয়াল (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) দফতর ঘেরাও এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ করল পুলিশ (Police)। বুধবার দুপুরে কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে খোদ সিইও দফতরের সামনে এ হেন বিশৃঙ্খলা নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিল নির্বাচন কমিশন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councilor) শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শচিন সিং। এ ছাড়াও মইদুল, মহম্মদ ওয়াসিম, চন্দ্রকান্ত সিং এবং মহম্মদ রিজওয়ান আলির নামেও নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ মার্চ মধ্যরাতে। অভিযোগ, স্ট্র্যান্ড রোডে শিপিং কর্পোরেশন বিল্ডিংয়ের সামনে (যেখানে সিইও দফতর অবস্থিত) তৃণমূলের এই দুই কাউন্সিলরের নেতৃত্বে কয়েক জন কর্মী-সমর্থক বেআইনি জমায়েত করেন। সিইও-র বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বারবার বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও, তাঁরা তা কর্ণপাত করেননি বলে এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
কোন কোন ধারায় মামলা?
হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের করা ওই এফআইআর-এ (নম্বর ৬৬৭/২০২৬) ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর সিইও পশ্চিমবঙ্গের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে টুইট করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তার ঠিক পরেই বুধবার সকালে লালবাজারের তরফে ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়। প্রশাসনের এই সক্রিয়তা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত না করার যে বার্তা নির্বাচন কমিশন দিয়েছিল, পুলিশ এখন সেই পথেই হাঁটছে। তৃণমূলের তরফে অবশ্য এই এফআইআর নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।