রাজবাড়ির সদস্যরা পান্তা ভাত, কচু শাক, আলু ও মিষ্টি মায়ের উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করেন। বিসর্জনের পর সেটিই প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। ভোগ, আরতি ও যাত্রামঙ্গল পাঠের মাধ্যমে প্রতিমাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানানো হয়।

টাকি রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জন
শেষ আপডেট: 2 October 2025 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখতে দেখতে পুজো (DURGAPUJA 2025) শেষ, আজ দশমী। দুর্গার কৈলাসে ফেরার পালা। টাকি রাজবাড়িতে মায়ের বিদায়ের মুহূর্ত সবাইকে আবেগে ভাসিয়ে তুলেছে। ইছামতি নদীর (Ichamati River) শান্ত জলে মা দুর্গার প্রতিমা নিরঞ্জনের (Durga Visarjan) ঐতিহ্য এবারও সঠিক নিয়ম মেনে সম্পন্ন হল। দুই বাংলার প্রাচীন রেওয়াজের সঙ্গে মিলেমিশে এই দিনটি আবেগের এক অমলিন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথা অনুযায়ী, প্রতিমা প্রথমে রাজবাড়িতে (Taki Rajbari Rituals) বরণ করা হয়। মহিলারা ঠাকুরদালানে সিঁদুর খেলার রীতিতে মেতে ওঠেন। আজও কোনও যানবাহন ব্যবহার করা হয়নি। ২৪ জন বেয়ারার কাঁধে প্রতিমা নিয়ে ইছামতি নদীর দিকে যাত্রা শুরু হয়। নদীর মাঝ বরাবর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নজরদারিতে থাকে এবং নিশ্চিত করে যে প্রতিমার বিসর্জন শান্তিপূর্ণ ও নিয়ম মেনে হবে।
রাজবাড়ির সদস্যরা পান্তা ভাত, কচু শাক, আলু ও মিষ্টি মায়ের উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করেন। বিসর্জনের পর সেটিই প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। ভোগ, আরতি ও যাত্রামঙ্গল পাঠের মাধ্যমে প্রতিমাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানানো হয়। হাজারো দর্শক, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা, বৃষ্টি উপেক্ষা করে নদীর পাড়ে ভিড় জমান, দুই বাংলার মানুষের মিলনের প্রতীক হয়ে ওঠা এই দিনটি প্রত্যক্ষ করতে।
স্থানীয় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের জেলা প্রশাসন মিলে নদীতে সীমান্তরেখা ঠিক করেছেন। গোটা শহর সিসিটিভি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই প্রাচীন রীতি বছর-বছর ধরে দুই বাংলার মানুষের আবেগ, ঐক্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে অটুটভাবে জড়িত রয়েছে- এটাই আজকের প্রতিমা নিরঞ্জনের মূল অর্থ।