ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, শাসকদলের কাউন্সিলরের ‘হাতের আশীর্বাদ’ থাকায় এই যুবকেরা এতদূর যেতে পেরেছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 4 October 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর ভাসান (Durga Puja Immersion) ঘিরে ফের উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ। অভিযোগ, ভাসান মিছিলে মদ্যপ যুবকদের দাপাদাপি থামাতে গিয়ে পুলিশের (Police) সঙ্গে ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে পুলিশকর্মীদের গায়ে হাত ওঠে, চলে কিল-চড়-ঘুষি। শেষমেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জে নামে পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার তিন পুজো উদ্যোক্তা। এলাকায় চাঞ্চল্য।
ঘটনা টিটাগড় (Titagarh) পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগদিপাড়া মহাবীর সমিতির দুর্গাপুজো কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খড়দহের রাসখোলা ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন করতে যান ক্লাবের সদস্যরা। সেখানে মদ্যপ যুবকদের হট্টগোল শুরু হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে, অভিযোগ, কয়েকজন যুবক পুলিশকে ঘিরে ধরে চড়াও হয়। একাধিক পুলিশকর্মীর গায়েও হাত তোলা হয় বলে অভিযোগ।
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। শুরু হয় তীব্র বাগ্বিতণ্ডা, এরপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ভিড়। আতঙ্কে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় বিসর্জন মিছিলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাতের রাসখোলা ঘাট তখন কার্যত রণক্ষেত্র।
খড়দহ থানার পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। সেই ভিডিও ঘিরেই এখন নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, শাসকদলের কাউন্সিলরের ‘হাতের আশীর্বাদ’ থাকায় এই যুবকেরা এতদূর যেতে পেরেছে। তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “কার হাত কার মাথায় আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আইন নিজের পথে চলবে। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের ভূমিকাও প্রশংসনীয়।’’
তিনি আরও বলেন, “এত বড় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে পুলিশ যে ভূমিকা নিয়েছে, তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটলেও, কারও দলীয় পরিচয় নয়। আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই টিটাগড়-খড়দহ অঞ্চলে থমথমে পরিবেশ। দুর্গোৎসব শেষ হলেও ভাসান-পরবর্তী এই অশান্তি ঘিরে এখনও উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।