গত ২৭ মে নরেন্দ্রপুর থেকে বজবজ আসার পথে একটি বেসরকারি সংস্থার মালবোঝাই গাড়ি উধাও হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে বেপাত্তা চালক।

গাড়ি নিয়ে ফেরার চালক!
শেষ আপডেট: 30 May 2025 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৭ মে নরেন্দ্রপুর থেকে বজবজ আসার পথে একটি বেসরকারি সংস্থার মালবোঝাই গাড়ি উধাও হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে বেপাত্তা চালক। এ ব্যাপারে পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে কার্যত আরও বিপাকে সংস্থার কর্তা।
ওই বেসরকারি সংস্থার কর্ণধার সুরজিৎ সিংহ রায় এদিন সন্ধেয় টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে বলেন, "চুরি হলে মানুষ কোথায় যায়? নিশ্চয়ই থানায়। আমিও তাই গিয়েছিলাম। কিন্তু সীমানা নিয়ে নরেন্দ্রপুর আর বজবজ থানার পুলিশ দড়ি টানাটানি শুরু করেছে। এরই মধ্যে তারাতলা থানার তরফে ফোন করে বলা হয়, থানার সামনে আপনার গাড়ি পড়ে রয়েছে।"
সুরজিৎবাবু আরও বলেন, "গিয়ে দেখি থানার সামনে আমার গাড়ি পড়ে রয়েছে। কিন্তু গাড়িতে থাকা কয়েক লক্ষ টাকার মাল নেই। চালকও বেপাত্তা। কীভাবে থানার সামনে গাড়ি এল, পুলিশ কোনও সদুত্তর দিচ্ছে না। পুরো বিষয়টা আমার কাছে ধোঁয়াশার ভরা। বুঝতে পারছি না কী করব।"
গোটা বিষয়টা খোলসা করার সময় তিনি জানান, গত ২৭ মে কোম্পানির গাড়ি নিয়ে বেপাত্তা গাড়ির চালক রোহিত সিং। খোঁজখবর নিয়ে সংস্থার কর্তারা জানতে পারেন, চুরির দায়ে অতীতে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া কর্মী রাহুল মণ্ডলের সাহায্যে বর্তমান চালক রোহিত গাড়ি-সহ কোম্পানির একাধিক সামগ্রী বেচে দিয়েছেন।
গোটা ঘটনাটা কীভাবে ঘটেছে? সুরজিৎবাবু জানান, নরেন্দ্রপুর থেকে সকাল ৭টা নাগাদ বেরিয়ে বজবজে এসে মালবোঝাই করে, আবার নরেন্দ্রপুর ফিরে যেতে রোজের সময় লাগে দুপুর ৩টে থেকে সারে ৩টে। কিন্তু ২৭ তারিখ, অর্থাৎ যেদিন গাড়িটি নিখোঁজ হয়, সেদিন সকাল ৭টায় বেরিয়ে রাত সারে ১০টার সময়ও গাড়ির চালক নরেন্দ্রপুরে ফেরেনি। অথচ সঠিক সময়ে গাড়ির চালক মাল লোডিং করেছিল। ইনভয়েস মেলও এসেছিল আমার কাছে, যে মাল লোডিং হয়ে গেছে।

সুরজিৎবাবু বলেন, "সেদিন বিকেল ৫টাতেও যখন গাড়ি নরেন্দ্রপুর পৌঁছল না, তখন ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। গাড়ির চালক রোহিত সিং আমাকে ফোনে বলল তাঁর গাড়ি নাকি রাস্তায় পুলিশ আটকেছে, তাই দেরি হচ্ছে। তারপর থেকেই আমার সন্দেহ বাড়ে। অবশেষে রাত ১০টাতেও যখন খোঁজ পেলাম না, তখন পুলিশের কাছে যাই। নরেন্দ্রপুর থানায়। সেখানে এফআইআর দায়ের করি। সেখান থেকে আমাকে বলা হয়, তাঁরা কিছু করতে পারবে না। কারণ গোটা বিষয়টা বজবজ থানার এত্তিয়ারে পড়ে। তাই সেখানে এফআইআর করুন। পরের দিন সকালবেলা সেখানে গেলে, আমাকে বলে নরেন্দ্রপুর থানায় যখন একবার এফআইআর করেছেন, তখন আমরা আর করব না। সেখান থেকে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আজকে নিয়ে তিনদিন। কোনও রকম কিছুই সাহায্য করছে না পুলিশ। উল্টে বলছে নরেন্দ্রপুর থানার থেকে এফআইআর বারুইপুর থানায় এসেছে। সেখান থেকে আমাদের কাছে আসবে। তারপরেই আমরা এগোতে পারব।'

দ্য ওয়ালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আফসোসের সুরে সুরজিৎবাবু বলেন, 'রাহুল মণ্ডল ও রোহিত সিং দু'জনকেই আমি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে দেখেছি। তারা বন্দুক আর টাকা নিয়ে শুয়ে আছে বিছানায়। আমার মনে হচ্ছে ওরা লক্ষাধিক টাকার মাল বেচে দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনও কিছু করছে না। ওদের ধরছে না। গোটাটাই তো স্পষ্ট। তাদের পোস্টের তারিখ আর সময় দেখলেই তো বোঝা যাচ্ছে, আমার গাড়ি নিয়ে পালানোর পরেই ওরা এসব করেছে।' এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানার তরফে অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপেডট করা হবে।
এখানে উল্লেখ্য তদন্ত নিয়ে পুলিশের দড়ি টানাটানির নজির নতুন নয়। পুলিশের এই দড়ি টানাটানি বন্ধে ইতিমধ্যে ‘লোকাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’, সংক্ষেপে এলআইএমএস নামে একটি নতুন পোর্টাল (New Portal) আনছে রাজ্য পুলিশ। যার সাহায্যে থানায় বসেই রাজ্যের যেকোনও থানা এলাকার তথ্য পাওয়া যাবে।