সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেফতার আইন পড়ুয়া শর্মিষ্ঠা পানোলির পক্ষে মুখ খুললেন কঙ্গনা রানাউত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কটাক্ষ করে বললেন, “রাজ্যকে উত্তর কোরিয়া বানাবেন না।”

কঙ্গনা রানাউত ও শর্মিষ্ঠা পানোলি।
শেষ আপডেট: 2 June 2025 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরের পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’ করেছেন পুণের আইন পড়ুয়া শর্মিষ্ঠা পানোলি। এমনই অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রতি কটাক্ষ ছুড়ে কঙ্গনা বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গকে উত্তর কোরিয়া বানানোর চেষ্টা করবেন না।'
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে গলা তোলেন কঙ্গনা। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ জানান, ২২ বছর বয়সি আইন পড়ুয়া শর্মিষ্ঠা পানোলিকে মুক্তি দেওয়া হোক।
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ে দেশের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন শর্মিষ্ঠা। সে সময়ে বলিউডের একাধিক অভিনেতার নীরবতা নিয়ে তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
গুরগাঁও থেকে কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে এবং আদালতের নির্দেশে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
কলকাতা পুলিশ এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছে, কোথায় কোন অভিযোগের ভিত্তিতে কেন শর্মিষ্ঠাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই নিয়ে ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি না ছড়ানোর অভিযোগও করা হয়েছে পুলিশের তরফে।
Some social media accounts are spreading false information that Kolkata Police has unlawfully arrested a law student for opposing Pakistan. This narrative is mischievous and misleading.
Expressing national pride and patriotism is a thing that every citizen and organisation…— Kolkata Police (@KolkataPolice) June 1, 2025
যদিও জানা গিয়েছে, ওই মন্তব্যের জন্য গত ১৫ মে তারিখের ভিডিওটি মুছে ফেলেন এবং নিঃশর্ত ক্ষমাও চান শর্মিষ্ঠা। কঙ্গনা বলেন, 'আইন-শৃঙ্খলার নাম করে কাউকে হয়রানি করা কখনওই উচিত নয়। কেউ যদি ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়ে এবং পোস্ট ডিলিট করে থাকেন, তাহলে তাঁকে জেলে পোরা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা, তাঁর কেরিয়ার শেষ করে দেওয়া এবং চরিত্রহননের চেষ্টা— এসব অত্যন্ত অন্যায়। দেশের কোনও মেয়ের সঙ্গেই এমন ব্যবহার করা উচিত নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, রাজ্যটিকে যেন উত্তর কোরিয়ার মতো করে না তোলা হয়। প্রত্যেকেরই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। শর্মিষ্ঠা যা বলেছেন, তা সাধারণভাবে বলেছেন। আজকের প্রজন্ম ইংরেজি ও হিন্দি দুই ভাষাতেই এই ধরনের শব্দ প্রায়ই ব্যবহার করে থাকে। তিনি একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী তরুণী, তাঁর ভবিষ্যৎ রয়েছে। তাই তাঁকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত।'
প্রসঙ্গত, কঙ্গনার ‘উত্তর কোরিয়া’ মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সেই দেশের একনায়ক শাসক কিম জং উনের প্রসঙ্গ। তাঁর শাসনব্যবস্থা স্বৈরতান্ত্রিক ও কঠোর বলেই পরিচিত।
শুধু কঙ্গনা রানাউত নন, বিজেপির একাধিক নেতা শর্মিষ্ঠার পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন, 'একটি ভিডিও করে তিনি মুছেও ফেলেছেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন। তার পরেও ২২ বছরের একটি মেয়েকে গ্রেফতার করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর কথায় কোথাও কোনও সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ায়নি, তবু পুলিশের এই তৎপরতা প্রশ্ন তুলছে। এটা আর আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি নির্বাচনমুখী হিংস্র রাজনীতির চেহারা নিচ্ছে।'
বিজেপি আরও প্রশ্ন তুলেছে, 'শুধু বিজেপি সমর্থকদেরই কি এইভাবে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে? রাজ্যের তৃণমূল নেতারা যদি হিন্দু ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তখন কি পুলিশ এত দ্রুত পদক্ষেপ করে?' এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় #AllEyesOnSharmishta হ্যাশট্যাগে প্রচার চলছে। বহু সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতা শর্মিষ্ঠার মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন।