এখানেই না থেমে হুমায়ুন নির্দিষ্ট করে মুর্শিদাবাদের কয়েকটি থানার নাম উল্লেখ করেছেন।

হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 2 June 2025 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুর থানার আইসি (Bolpur PS IC) লিটন হালদারকে (Liton Halder) ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলার অভিযোগে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। পুলিশের তরফে এফআইআরও করা হয়েছে। কেষ্টর গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা।
এমন আবহে এবার নিচুতলার পুলিশকে নিশানা করলেন শাসকদলের আর এক বিধায়ক। দলীয় এক সভা থেকে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, "আমরা সরকারে রয়েছি। হাতে পায়ে বেড়ি, তাই কিছু করতে পারছি না। বিরোধী দলে থাকলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে থানার পুলিশকে শায়েস্তা করে দিতাম।"
এখানেই না থেমে হুমায়ুন নির্দিষ্ট করে মুর্শিদাবাদের কয়েকটি থানার নাম উল্লেখ করে বলেন, "লালগোলা, সামশেরগঞ্জ , ভরতপুর এমন কয়েকটি থানা রয়েছে য়েখানে এমন সব কর্মকাণ্ড চলে যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি হতে হয়।"
কী ধরনের হয়রানি তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি হুমায়ুন। তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বস্তুত, রাজ্যের অধিকাংশ থানাগুলিতেই আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নেই বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে থাকেন হুমায়ুন। পরোক্ষে বিরোধীদের সেই বক্তব্যকেই হুমায়ুন সমর্থন করলেন কিনা তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি যেভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যো পুলিশকে শায়েস্তা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এমন পরিস্থিতি যে তৈরি হতে পারে তা আগেই আন্দাজ করেছিল ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, অনুব্রত মণ্ডল বোলপুর থানার আইসি-কে যে কদর্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন, তাতে পুলিশের সম্ভ্রম ও মর্যাদাহানি হয়েছে। তা ছাড়া থানার আইসিকে পুলিশ কোয়ার্টার থেকে টেনে বের করে হেনস্থা করার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন কেষ্ট। সেই সঙ্গে ওই আইসি-র মা ও স্ত্রীর মর্যাদাহানি করেছেন। এর পর মানুষ দেখতে চাইছে পুলিশ তাদের সম্ভ্রম ও মর্যাদা রাখতে কী ব্যবস্থা নেয়। অনুব্রতর আদৌ শাস্তি হয় কিনা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এভাবে পুলিশ যদি সম্ভ্রম ও মর্যাদা হারিয়ে ফেলে, তাহলে পুলিশের কর্তৃত্ব নিয়েই আগামী দিনে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে হুমায়ন কবীরদের তালিকাও দীর্ঘতর হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাঁদের মতে, এই ট্রেন্ড বন্ধ না করা গেলে আগামী দিনে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা এভাবে গালমন্দ করে পরদিন ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পুলিশের প্রতি আস্থা ও বাহিনীর কর্তৃত্বের প্রশ্নে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে।