মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ইডি-সিবিআই দিয়ে তাঁদের ঠেকাতে পারছে না তাই এখন সেনা নামিয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের আগুনে কার্যত আরও ঘি ঢেলেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 3 September 2025 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলায় (Dharmatala) তৃণমূলের মঞ্চ (TMC Stage) ভারতীয় সেনার (Indian Army) তরফে খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেছিলেন, সেনা বিজেপির হয়ে কাজ করছে! এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল সরব হয়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মনে করেন, মমতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন এবং সেনাকে অপমানের দায়ে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আর দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) সরাসরি তৃণমূলকে দেশবিরোধী বললেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ইডি-সিবিআই দিয়ে তাঁদের ঠেকাতে পারছে না তাই এখন সেনা নামিয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের আগুনে কার্যত আরও ঘি ঢেলেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায় - ভারতীয় সেনা দেশবাসীর গর্বের প্রতীক, সম্মানের প্রতীক। এইসব মন্তব্য করে আদতে শুধু সেনা নয়, দেশকে অপমান করা হচ্ছে।
দিলীপ বলছেন, ''সেনার সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক দল, সরকার ঝগড়া করছিল, এখন পুলিশও করছে। এতে কার লাভ হবে? পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) কি ভারত থেকে আলাদা হয়ে যাবে নাকি? এই করতে গিয়ে তৃণমূল এবং এখানকার সরকার দেশবিরোধী (Anti-National) হয়ে যাচ্ছে।'' মমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এও বলেন, ''বাংলায় যদি আইনশৃঙ্খলার এই হাল হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসনও হবে, সেনাও নামবে।'' সেটা যাতে না হয়, তার জন্য তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের নিজেদের ঠিক রাখার 'পরামর্শ' দিয়েছেন দিলীপ।
সেনার সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে মঙ্গলবারই আরও চাঁচাঁছোলা মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল - ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্ধ হয়ে গেছেন, সে কারণে এখন ভারতীয় সেনাকেও অপমান করতে ছাড়ছেন না। বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দোপাধ্যায়কে পাকিস্তানে পাঠানো উচিত। ভারতীয় সেনা কারও কাছে ভয় পায় না। মুখ্যমন্ত্রীর মতো কারও জন্য সেনার পালানোর প্রশ্নই ওঠে না।”
এদিকে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে কার্যত বিবাদ হয়েছে সেনার। মঙ্গলবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে একটি সেনার ট্রাককে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, সেটি আইন ভেঙে বেপরোয়া গতিতে যাচ্ছিল। পিছনে সিপি-র কনভয় থাকায় বিপদ ঘটে যেতে পারত। ঘটনার মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজও (CCTV) প্রকাশ করেছে কলকাতা পুলিশ। সেই ফুটেজকে হাতিয়ার করেই ডিসি ট্রাফিক জানান, ওই জায়গায় কোনও রাইট টার্ন সিগন্যালই ছিল না। তবে ট্রাকটি সেটিই নিতে গিয়েছিল।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশও শাসক দলের তাবেদারি করে সেনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে কিনা। যদিও ডিসি ট্রাফিক সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানান, বিষয়টি একদমই আইন ভাঙার ঘটনা, কোনও রাজনীতির ঘটনা নয়। তাই কেউ যেন কোনও রাজনৈতিক রং না লাগান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষ হলেও একই পদক্ষেপ করা হত। রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ে জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance)।