রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এও বক্তব্য, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্ধ হয়ে গেছেন, সে কারণে এখন ভারতীয় সেনাকেও অপমান করতে ছাড়ছেন না।

শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 September 2025 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলায় (Dharmatala) তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ সরানো নিয়ে শাসক শিবিরের (TMC) নিশানায় পড়েছে সেনাবাহিনী (Indian Army)। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দাবি করেন, বিজেপির (BJP) কথাতেই এ কাজ করেছে সেনা। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শোরগোল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন।
বাংলাভাষীদের ভিনরাজ্যে হেনস্থার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মঞ্চ গড়েছিল তৃণমূল (TMC)। কিন্তু সেনাবাহিনী এসে সেই মঞ্চ সরাতে বলে। তাঁদের যুক্তি ছিল, ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মঞ্চ বাঁধা যাবে না। ঘটনাটি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, ''এটা সেনাবাহিনীর কাজ নয়, এর পিছনে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার রয়েছে। সেনাদের দোষ নেই, তাঁরা বিজেপির নির্দেশে কাজ করছেন।''
এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, 'ভারতীয় সেনাকে অপমান করার সাহস দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০ সেনা পালিয়েছে বলে শুধু মিথ্যে বলেননি, বরং আমাদের বাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করার মতো জঘন্য কাজ করেছেন।' শুভেন্দুর কথায়, যাঁদের সাহস এবং ত্যাগের তুলনা হয় না তাঁদের এইভাবে অপমান করা কেউ মেনে নেবে না।
Shame on you, Mamata Banerjee.
Your audacity to defame the Indian Army, the pride of our nation, is a new low. We always knew that you are an Anti National, however claiming that 200 brave Army personnel "ran away" when you arrived at the Maidan is not just the biggest lie you… pic.twitter.com/KnCZ551sR8— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) September 1, 2025
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এও বক্তব্য, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্ধ হয়ে গেছেন, সে কারণে এখন ভারতীয় সেনাকেও অপমান করতে ছাড়ছেন না। এই ইস্যুতে তাঁর পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কটাক্ষ - একটুও লজ্জা অবশিষ্ট থাকলে এখন পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত।
বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দোপাধ্যায়কে পাকিস্তানে পাঠানো উচিত। ভারতীয় সেনা কারও কাছে ভয় পায় না। মুখ্যমন্ত্রীর মতো কারও জন্য সেনার পালানোর প্রশ্নই ওঠে না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ শুনে সেনার পাল্টা বক্তব্য কী ছিল? সোমবারই তাঁরা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, দু’দিনের জন্য সভা করতে চেয়ে এক প্রকার অস্থায়ী প্যান্ডেলকে স্থায়ী ধর্নাস্থল করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ইস্টার্ন কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, দুদিনের অনুমতি নিয়ে সাতদিন ধরে মঞ্চ বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাই খুলে ফেলা হয়েছে।