তবে সেনার সাফাই, অনুমতি ছিল মাত্র দু’দিনের। সেই সময়সীমা ছাড়িয়ে প্রায় এক মাস ধরে গাঁটছড়া বেঁধে বসেছিল ওই অস্থায়ী কাঠামো। একাধিকবার চিঠি দিয়েও সাড়া না মেলায় কলকাতা পুলিশকে জানিয়ে নিজেই কাঠামো সরিয়ে দেয় সেনা।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 1 September 2025 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলায় (Dharmatala) তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ জোর করে খুলে ফেলার অভিযোগ উঠল সেনার বিরুদ্ধে (Army)। এর প্রতিবাদে এবার সেনার জায়গা থেকে আন্দোলন মঞ্চ সরিয়ে নিল তৃণমূল (Mamata Banerjee-TMC)।
প্রথমে নেত্রী জানিয়েছিলেন, রানি রাসমনিতে হবে প্রতিবাদ মঞ্চ। পরে তিনি বলেন, ‘‘শুনলাম ওটা সেনার জায়গা। অনুমতি নিতে হলে আবার দিল্লি থেকে নিতে হবে। তাই আমরা সরিয়ে নিচ্ছি।’’ এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রানি রাসমনি নয়, আমাদের প্রতিবাদ সভা হবে ডোরিনা ক্রসিংয়ের আশেপাশে।
একই সঙ্গে ঘোষণা — আগামিকাল দুপুর ২টোয় রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও পঞ্চায়েতে হবে প্রতিবাদ কর্মসূচি। দলের কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন তৃণমূল নেত্রী।
তবে সেনার সাফাই, অনুমতি ছিল মাত্র দু’দিনের। সেই সময়সীমা ছাড়িয়ে প্রায় এক মাস ধরে গাঁটছড়া বেঁধে বসেছিল ওই অস্থায়ী কাঠামো। একাধিকবার চিঠি দিয়েও সাড়া না মেলায় নিজেই কাঠামো সরিয়ে দেয় সেনা।
সেনার বিবৃতি অনুযায়ী, “ময়দানের কোনও এলাকায় অনুষ্ঠান করতে হলে স্থানীয় সামরিক কর্তৃপক্ষ দু’দিনের অনুমতি দিতে পারে। তার বেশি সময়ের জন্য অনুমতি লাগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। এ ক্ষেত্রে দু’দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাসখানেক ধরে মঞ্চ পড়ে ছিল। একাধিকবার সতর্ক করার পরেও না সরানোয়, কাঠামোটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
মঞ্চ খোলার খবর ছড়াতেই এদিন মেয়ো রোডের ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বিজেপির কথাতেই এ কাজ করেছে সেনা বাহিনী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সেনার অনুমতি নিয়েই ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল। ওদের আপত্তি থাকলে আমাদের বলতে পারতো। কলকাতা পুলিশকে বলতে পারত। অরূপ বিশ্বাসকে জানাতে পারত। আমরা খুলে দিতাম। তা না করে মঞ্চ ভাঙা হল। এটা অনৈতিক।"
তৃণমূল বলছে, এটা শুধুই মঞ্চ সরানো নয়, বাংলার আত্মসম্মানে আঘাত। এখন দেখার, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য বনাম কেন্দ্র সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।