ডিসি ট্রাফিক এও বলেন, ঘটনাস্থলে পরিষ্কার 'নো রাইট টার্ন' বোর্ড রয়েছে। তাই এটা স্পষ্টভাবে লেন ভায়োলেশনের ঘটনা। একই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোরও।

ডিসি ট্রাফিক শ্রীকান্ত
শেষ আপডেট: 2 September 2025 19:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সকালে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের (Writers Building) সামনে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) সেনার গাড়ি আটকানোর ঘটনা নিয়ে তরজা চলছে। বিষয়টিতে রাজনৈতিক রং-ও লেগে গেছে কারণ সোমবার সেনা ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মঞ্চ খুলে দিয়েছিল। তবে পুলিশের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি একদমই আইন ভাঙার ঘটনা, কোনও রাজনীতির ঘটনা নয়। তাই কেউ যেন কোনও রাজনৈতিক রং না লাগান।
পুলিশ প্রথম থেকেই দাবি করছে, সেনার ট্রাকটি বিপজ্জনকভাবে চালানো হচ্ছিল এবং মুহূর্তের মধ্যে যে কোনও অঘটন ঘটতে পারত। আর ওই ট্রাকের পিছনে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার গাড়ি (CP Manoj Verma) থাকার ফলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। যদিও সেনা বেপরোয়া গতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যদিও পুলিশ নিজেদের দাবিতে অনড়।
মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন ডিসি ট্রাফিক (DC Traffic) শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষ হলেও একই পদক্ষেপ করা হত। রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ে জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance)। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, ঘটনাটি নিয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনার মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজও (CCTV) প্রকাশ করেছে কলকাতা পুলিশ। সেই ফুটেজকে হাতিয়ার করেই ডিসি ট্রাফিক জানান, ওই জায়গায় কোনও রাইট টার্ন সিগন্যালই ছিল না। তবে ট্রাকটি সেটিই নিতে গিয়েছিল।
ডিসি ট্রাফিক এও বলেন, ঘটনাস্থলে পরিষ্কার 'নো রাইট টার্ন' বোর্ড রয়েছে। তাই এটা স্পষ্টভাবে লেন ভায়োলেশনের ঘটনা। একই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোরও। ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পাসপোর্ট অফিস যাচ্ছিল সেনাবাহিনীর গাড়িটি। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ সেই গাড়ি আটকানো হয়। কিন্তু ডিসি ট্রাফিকের কথায়, যে রাস্তা দিয়ে ট্রাকটি যাচ্ছিল পাসপোর্ট অফিস যেতে হলে সেই রাস্তা দিয়ে যেতে হয় না।
আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেনার গাড়িকে সিগন্যাল দেখানো হয়েছিল। তবে অনুমান, কোনও কারণে গাড়ির চালক তা দেখতে পাননি। এই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নানা জায়গায় ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ বলছে - ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কিছু মহল থেকে নানা ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটি স্পষ্টতই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এবং দোষী চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, অযাচাইকৃত তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না, সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করুন।