দিঘার রথযাত্রা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কার্যত বাড়াবাড়ি করছে বলে মনে করছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, দেখে মনে হচ্ছে এর আগে কেউ রথযাত্রা দেখেনি।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 25 June 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরে (Digha Jagannath Temple) প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে রথযাত্রা (Rathyatra)। বুধবারই দিঘার উদ্দেশে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলে জানা গেছে। তবে তাঁর এই সফর এবং দিঘার রথযাত্রা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। কালীগঞ্জ থেকে শুরু করে চাকরিহারাদের ইস্যু নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
বর্ষীয়ান বিজেপি নেতার দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে মাথায় রেখেই যা করার করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্যই হচ্ছে ভোট। ঠিক কী বক্তব্য দিলীপের? তিনি বলছেন, ''পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্য কোনও কাজ নেই। না উন্নয়ন করার, না কোনও সমস্যা সমাধানের ইচ্ছে রয়েছে। চাকরিহারারা রাস্তায় বসে আছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় নেই। আগামী বছর স্কুলগুলি উঠে যাবে কিনা তা কেউ জানে না। তবে ২৬-এর ভোটকে মাথায় রেখে এই উৎসব করা হচ্ছে। পুরো প্রশাসনকে এটার পিছনে লাগিয়ে দিয়েছে।''
দিঘার রথযাত্রা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কার্যত বাড়াবাড়ি করছে বলে মনে করছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, ''দেখে মনে হচ্ছে এর আগে কেউ রথযাত্রা দেখেনি। আর কোথাও যেন রথযাত্রা হয়নি। ৬০০ বছর ধরে দেশে রথযাত্রা হয়ে আসছে। কিন্তু সরকারি টাকায় এই ধরনের উৎসব, কার্নিভাল ছাড়া আগে হয়নি। ওঁর (পড়ুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) মনে হচ্ছে এটা করে ভোট পেয়ে যাবেন। কিন্তু আমার খুব সন্দেহ আছে।''
এই প্রসঙ্গে কালীগঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতার খোঁচা, প্রশাসন সব জায়গায় চুরমার হয়ে গেছে। পুলিশ-প্রশাসনের কোথাও উপস্থিতি দেখা যায় না। কালীগঞ্জের ঘটনায় প্রমাণিত পুলিশ দুর্নীতিগ্রস্থ। বাংলা দুর্বৃত্তদের হাতে। দিলীপের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে ললিপপ দেখিয়ে ভোটে জেতার চেষ্টা করছেন।
কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে তৃণমূল জেতার পর বিজয়যাত্রা বেরিয়েছিল। অভিযোগ, সেখান থেকেই বোমা মারা হয়। তাতে এক নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা রাজ্য তোলপাড়। ইতিমধ্যে পুলিশ একাধিক গ্রেফতারি করলেও শাসক দলের প্রতি বিরোধীদের আক্রমণ বহাল রয়েছে। এই নিয়েই দিলীপের মন্তব্য, দিনের আলোয় এইভাবে বোমা নিয়ে কেউ বিজয় উৎসব করে কোনও দিন দেখেননি তিনি। তবে তাঁর ধারণা, আরজি করের ঘটনা থেকে বগটুইয়ের ঘটনা যেমন চাপা পড়ে গেছে, এটাও তাই হবে।