দিলীপ ঘোষকে ফের দলের মূল স্রোতে আনার যদি এটা প্রয়াস হয়, তাহলে তা আদৌ কতটা সফল হবে, নাকি এটি শুধুই সাময়িক সৌজন্য - সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী দিনে।

অমিত শাহ এবং দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 31 December 2025 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার কলকাতায় (Kolkata) দলের সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন অমিত শাহ (Amit Shah)। সল্টলেকের একটি হোটেলে হওয়া সেই বৈঠকে যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের মধ্যে সবথেকে চমকপ্রদ নাম - দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)! ওই বৈঠকে হাজিরও হন তিনি। বিজেপির অন্দরে এই উপস্থিতিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) উপস্থিতি অনেকের কাছেই বড় খবর? আসলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবং মূলত দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple) উদ্বোধনের দিন সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করার পর থেকেই দিলীপের সঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুমান। এই আবহেই বিগত কয়েক মাসে দলের একাধিক বড় কর্মসূচি হোক বা খোদ নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) রাজ্য সফর - কোনও ক্ষেত্রেই ডাক পাননি তিনি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বুধবার অমিত শাহের বৈঠকে দিলীপের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার পরিসর তৈরি করে দিয়েছে।
অমিত শাহের বৈঠকে দিলীপ #amitshah #dilipghosh #dilipghoshbjp #dilipghoshnews #bjpmeeting #WestBengal pic.twitter.com/2EDSkdxzuT
— The Wall (@TheWallTweets) December 31, 2025
অমিত শাহ (Amit Shah) বর্তমানে তিনদিনের বঙ্গ সফরে রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির (BJP Core Committee) সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার-সহ বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নেতা। তবে সেই বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে দেখা যায়নি। কিন্তু বুধবারের সাংসদ-বিধায়কদের বৈঠকে দিলীপ ঘোষের ডাক পান। এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে - দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও দূরত্ব মেটাতেই কি শাহের এই উদ্যোগ?
এদিন দুপুরে সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়ামে (Science City) বিজেপির কর্মী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা অমিত শাহের। তার পরে বিকেলে ঠনঠনিয়া কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে শহর ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে তার আগেই দলের অন্দরের সমীকরণ মেরামতির চেষ্টা শুরু করে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দিলীপ ঘোষকে ফের দলের মূল স্রোতে আনার যদি এটা প্রয়াস হয়, তাহলে তা আদৌ কতটা সফল হবে, নাকি এটি শুধুই সাময়িক সৌজন্য - সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী দিনে। তবে আপাতত একটাই স্পষ্ট, বঙ্গ বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব মেটাতে দিল্লির নেতৃত্ব যে আর বিষয়টি উপেক্ষা করতে নারাজ, সেই বার্তাই মিলেছে এই বৈঠক থেকে।