শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস ঘিরে রাজনৈতিক তরজা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘ঠেলার নাম বাবাজি’।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 16 January 2026 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইকোপার্ক থেকে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির (Mahakal temple issue)—ধর্ম আর রাজনীতির সংঘাতে ফের সরগরম বাংলা। রাজ্যের সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করতে শুক্রবার শিলিগুড়ি সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার আগেই এই মন্দির-উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
এর আগে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময় দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে দিলীপ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আমন্ত্রণ করেছেন কি না, তা বড় কথা নয়। দিলীপ বলেন, “আমি হঠাৎ ভক্ত সাজতে মন্দিরে যাই না। মন্দিরে যাই ভগবানের সঙ্গে দেখা করতে। কে মন্দির বানাল, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
সেই সঙ্গে তৃণমূলের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর সংযোজন, “সব উদ্দেশ্য ঠিক না থাকলে ভগবানও বাধা দেন। সৎ উদ্দেশ্য থাকলে কোনও বাধাই থাকে না।”
মন্দির রাজনীতিতে বিজেপি কি ব্যাকফুটে? এই প্রশ্নে দিলীপের পাল্টা জবাব আরও তীক্ষ্ণ। তাঁর দাবি, বিজেপি কখনও ভোটের জন্য মন্দির তৈরি করে না। “রাম মন্দির ভারতীয় সংস্কৃতির সংগ্রামের প্রতীক। ৫০০ বছরের লড়াই, সাধারণ মানুষের চাঁদায় তৈরি। বিজেপি নৈতিকভাবে পাশে ছিল। বাকিরা সাহস পায়নি। আজ পরিস্থিতির চাপে মন্দিরে যেতে হচ্ছে।”
কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “ঠেলার নাম বাবাজি। ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে—কেউ কেউ আবার মন্দিরে উঠছে গিয়ে!” দিলীপের আরও অভিযোগ, হিন্দুদের খুশি করতে তৃণমূল মন্দির করছে, কিন্তু তাতে মানুষের মন জয় হবে না। “মানুষ সব দেখছে,” স্পষ্ট বার্তা তাঁর।
উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের বাড়তি ফোকাস প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, দক্ষিণবঙ্গে গায়ের জোরে বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, হাইকোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, পনেরো বছরে তৃণমূল সীমা ছাড়িয়েছে, আসন্ন ভোটে উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ নির্বিশেষে তার জবাব দেবে মানুষ।
প্রসঙ্গত, মাটিগাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের জন্য জমি চিহ্নিত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। দিঘার জগন্নাথ মন্দির ও নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের পর উত্তরবঙ্গেও বড় ধর্মীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই উদ্যোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা।