পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে তাঁর থাকার ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানতে পারে পরিবার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 January 2026 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের (Murshidabad Migrant Worker) রহস্যজনক মৃত্যুকে (Death) কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল বেলডাঙা (Beldanga)। মৃতদেহ গ্রামে ফেরার পরেই শুক্রবার সকাল থেকে জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো (Protest and Rail Roko Campaign) কর্মসূচিতে নামেন গ্রামবাসীরা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সুজাপুর–কুমারপুর এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
মৃত শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩৭)। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তিনি। পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে তাঁর থাকার ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানতে পারে পরিবার। আর এই খবর পাওয়ার পরই তাঁদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, আলাউদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক (West Bengal Migrant Worker) হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ
শুক্রবার সকাল থেকেই এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে পথে নামেন সুজাপুর ও কুমারপুরের গ্রামবাসীরা। বেলডাঙার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। এটি কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রাস্তা।
এই অবরোধের জেরে দু’দিকে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। শতাধিক বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। একই সঙ্গে বেলডাঙা স্টেশনেও রেল অবরোধ শুরু হয়। শিয়ালদহ–লালগোলা শাখায় একাধিক ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে গোটা লাইনে।
শেষ ফোনেই ইঙ্গিত?
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে শেষবার বাড়িতে ফোন করেছিলেন আলাউদ্দিন। কথা হয়েছিল তাঁর মায়ের সঙ্গে। মৃতের মা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে বলেছিল, যেখানে আছে সেখানে পরিস্থিতি ভাল নয়। খুব ভয়ে ছিল। ঘর থেকে বেরোতেও পারছিল না। বলেছিল, সুযোগ পেলেই বাড়ি ফিরবে! তারপরই আর কোনও ফোন ধরেনি আলাউদ্দিন। মায়ের দাবি, খুন করা হয়েছে তাঁকে।
রাজনৈতিক ক্ষোভ, পুলিশের কড়া নজর
বিক্ষোভকারীরা শুধু ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের বিরুদ্ধেই নয়, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপি - দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ পুরোপুরি ওঠেনি এবং উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।