অভিযোগ, সেখানে ‘লজিক্যাল হিয়ারিং’ হওয়ার কথা ছিল। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। শুনানি যখন শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জমায়েত উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

শেষ আপডেট: 16 January 2026 00:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরে নজিরবিহীন অশান্তিতে (Golpokhor -2 block vandalism) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের গোলপোখর-২ ব্লকের (Golpokhor -2 block) বিডিও অফিস। অভিযোগ, প্রায় তিনশো মানুষের একটা জমায়েত হঠাৎই দফতরে ঢুকে পড়ে এবং তাণ্ডব চালায়। গোলপোখর-২-এর বিডিও (Golpokhor -2 block BDO) সুজয় ধর এদিনের ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য জানিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাকুলিয়া (Chakulia) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজও (CCTV footage) রেফারেন্স হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন বিডিও।
অভিযোগ, দরজা-জানলা ভাঙচুর থেকে শুরু করে অফিসের আসবাব, নথিপত্র, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট - বহু সরকারি সম্পত্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতির অঙ্ক সরকারি হিসেবে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ছুঁয়েছে।

বিডিও অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে ওই তাণ্ডব। অভিযোগ, সেখানে ‘লজিক্যাল হিয়ারিং’ হওয়ার কথা ছিল। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। শুনানি যখন শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জমায়েত উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
বিডিও অফিসের কর্মীদের বক্তব্য, প্রথম দলটি হঠাৎই গেট ভেঙে দফতরে ঢুকে পড়ে। তারপর আরও বহু মানুষ যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ভাঙচুরের পাশাপাশি অফিসকর্মীদের মারধর পর্যন্ত করা হয়। নথি ছিঁড়ে ফেলা হয়, কিছুতে তো আগুন লাগানোর চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ।
অফিসে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চাকুলিয়া থানার আইসি-সহ পুলিশকর্মীরাও আহত হন। তাদের রক্ষা করতে গিয়ে বিডিও অফিসের কর্মীরাও মার খেয়ে গুরুতর জখম হন। পরে সকলকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, দফায় দফায় এই ভাঙচুর চলাকালীন ইসলামপুর-ডালখোলা সংযোগকারী একাধিক রাস্তায়ও অবরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনা সামাল দিতে বড়সড় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতার সামনে কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়ে পুলিশ।
চাকুলিয়ার এই ঘটনায় তাদের কড়া অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশ ও প্রশাসনের উপর সংগঠিত হামলার অভিযোগে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়। গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।
এসআইআর ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত আগেই। বুধবার মালদহের ফারাক্কার বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার একই ছবি ধরা পড়ে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায়। এর জেরে এসআইআর সংক্রান্ত জরুরি নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন।