ঠিক এক বছর আগে শহরের বুকে প্রশাসনিক ঝড় তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাস্তাঘাট দখল করে বসা হকারদের নিয়ে প্রকাশ্যেই উগরে দিয়েছিলেন ক্ষোভ। তারপরই কলকাতা কর্পোরেশন ও পুলিশের যৌথ অভিযান—ধর্মতলা থেকে শ্যামবাজার, গড়িয়াহাট থেকে বেহালা, একে একে উচ্ছেদ করা হয় বেআইনি হকারদের।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ঠিক এক বছর আগে শহরের বুকে প্রশাসনিক ঝড় তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাস্তাঘাট দখল করে বসা হকারদের নিয়ে প্রকাশ্যেই উগরে দিয়েছিলেন ক্ষোভ। তারপরই কলকাতা কর্পোরেশন ও পুলিশের যৌথ অভিযান—ধর্মতলা থেকে শ্যামবাজার, গড়িয়াহাট থেকে বেহালা, একে একে উচ্ছেদ করা হয় বেআইনি হকারদের।
সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই বলেছিলেন, "এবার বোধহয় সত্যিই বদলাবে শহর!" কিন্তু আদতে সেই ছবি কি বদলেছে? তা সরোজমিনে চাক্ষুষ করতে পুজোর আগে দ্য ওয়াল ঘুরে দেখল ধর্মতলা চত্বর। সেখানে দেখা গেল সেই পুরনো ছবি- ধর্মতলার দু’পাশ জুড়ে হকারের ভিড়, দোকান সাজানো একেবারে রাস্তায়, পথচলতি মানুষের হাঁটা যেন রীতিমতো যুদ্ধ।
তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হকাররা। এক হকারের কথায়, “বছরের পর বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। উঠতে বললে খাব কী, সংসার চলবে কী করে?” কেউ কেউ আবার বলছেন, “সরকার যদি বিকল্প জায়গা দিত, হকার হাব তৈরি করত, তাহলে না হয় উঠতাম। কিন্তু জায়গা না দিয়ে উচ্ছেদ মানে আত্মহত্যা করা ছাড়া রাস্তা থাকে না।”
অন্যদিকে, প্রতিদিন যাঁরা এই পথে যাতায়াত করেন, তাঁদের অভিযোগ, “অফিস টাইমে তো হাঁটা যায় না! রাস্তায় পা রাখার জায়গা নেই। এখন পুজোর আগে ভিড় আরও বাড়বে। তখন কী হবে কে জানে!”
ফলে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন—এত প্রচার, এত অভিযান, মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ—সবই কি তবে চোখে ধুলো? এক বছর পরও হকার-রাজ তেমনই বহাল। শহরের পুরনো ব্যস্ত ছবিতেই দ্য ওয়ালের ক্যামেরায় ধরা দিল কলকাতা।
হকার উচ্ছেদ, নাকি চিরস্থায়ী ব্যর্থতা? সময়েই মিলবে সদুত্তর।