ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের অনীহা স্পষ্ট। কিন্তু রাজ্য সরকারের ভরসা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি—“ঘাটালের মানুষকে আর জলজটে কষ্ট পেতে হবে না।”

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান
শেষ আপডেট: 22 June 2025 22:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের অনীহা স্পষ্ট। কিন্তু রাজ্য সরকারের ভরসা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতিশ্রুতি—“ঘাটালের মানুষকে আর জলজটে কষ্ট পেতে হবে না।” সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমা ও তার আশেপাশের প্রায় ৬৫৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রায় প্রতি বছরই বন্যার কবলে পড়ে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে বহু আগেই একটি সুসংহত প্রকল্প নেয় রাজ্যের সেচ ও জলপথ দফতর। ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (GFCC) কাছে ১২১২ কোটি টাকার একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট জমা দেয় রাজ্য।
অনেক চিঠি চালাচালির পর ২০২২ সালে কেন্দ্র এই প্রকল্পে ১২৩৮ কোটি টাকার অনুমোদন দিলেও, এখনও পর্যন্ত এক টাকাও মঞ্জুর করা হয়নি। FMBAP (Flood Management and Border Areas Programme)-এর আওতায় ফান্ড চেয়ে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য, কিন্তু ফল মেলেনি।
তবুও পিছিয়ে আসেনি নবান্ন। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৪১ কোটি টাকা খরচ করে সাতটি নদীর প্রায় ১১৫ কিমি পুনঃখনন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আরও ১৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই খরচও হয়ে গেছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকেই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। চন্দ্রেশ্বর খালের পুনঃখননের কাজ প্রায় শেষ। পাঁচটি স্লুইস গেটের ৬০–৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। ঘাটাল পুরসভা এলাকায় দুটি নতুন পাম্প হাউস তৈরির কাজও শুরু হচ্ছে শীঘ্রই। পাশাপাশি, শিলাবতী, বুড়িগঙ্গা, পুরাতন কাঁসাই-সহ সাতটি নদীর পুনঃখননের জন্য ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের আশা, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যেই এই প্রকল্পের সমস্ত কাজ শেষ হবে এবং ঘাটালবাসী বর্ষাকালে জলবন্দি হওয়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেচ ও জলপথ দফতর। দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “উনি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছেন। বিগত ১১ বছরে কেন্দ্র এক পয়সাও দেয়নি। রাজ্য একাই পুরো দায়িত্ব নিয়েছে।”