শুক্রবার থেকে নতুন করে প্লাবিত হতে শুরু করেছে ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন এলাকা। 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান'-এর কাজ শুরু হলেও বন্যার কারণে বেশ কিছু জায়গায় কাজ থমকে গিয়েছে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 22 June 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'লে চান্স লে, লে চান্স'—'বলো না তুমি আমার' ছবিতে এই গানের কলিই শোনা গিয়েছিল দেবের (Dev) লিপে। রবিবাসরীয় বিকেলে 'চান্স' বুঝে বিঁধতে ছাড়লেন না ঘাটালের সাংসদ। ১৯৭৮ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যা হয়েছিল। তার পর এবার টানা বৃষ্টিতে বানভাসী দশা ঘাটালেও (Ghatal Flood)। এহেন পরস্থিতির জন্য নতুন করে সেই কেন্দ্রীয় সরকারকেই দুষলেন অভিনেতা সাংসদ (TMC MP Dev)।
কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানির পর সদ্য মাস্টার প্ল্যানের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। যদিও ঘাটাল আছে ঘাটালেই। দুর্গতির শেষ নেই। অন্তত চার-পাঁচ বছর তো নয়ই। তবে বরাভয় দিতেও ছাড়লেন না। জানিয়েছেন ঘাটালে বন্যা হওয়ার পর মানুষের অভিমান যথারীতি জনপ্রতিনিধিদের উপরেই আসবে, তবে দুর্যোগের সময় সরকার এবং প্রশাসন মানুষের পাশে সব সময় আছে।
শুক্রবার থেকে নতুন করে প্লাবিত হতে শুরু করেছে ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন এলাকা। 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান'-এর কাজ শুরু হলেও বন্যার কারণে বেশ কিছু জায়গায় কাজ থমকে গিয়েছে। 'ড্রোন ভিউ'-তে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের কর্তারা।
বিগত 10 বছর ধরে লোকসভার সকল অধিবেশনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এর সপক্ষে সওয়াল করে এসেছি । অনেক চেষ্টার পরও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। 2024 রাজ্য সরকার ই সিদ্ধান্ত নেয় এবং এক তৃতীয়াংশ বাজেট ( 500 কোটি) বরাদ্দ করে। ফেব্রুয়ারি 2025 থেকে কাজ শুরু হয়। এই মাস্টার প্ল্যান এ…
— Dev (@idevadhikari) June 22, 2025
দেখা যায়, বেশ কিছু বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা। তাঁদের উদ্ধার করতে নেমেছে এনডিআরএফ। অসুস্থদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাস্তার উপর জল উঠে আসায় আটকে পড়ে বেশ কিছু গাড়ি। সম্ভাব্য বিপদ থেকে ওই যাত্রীদের উদ্ধার করছে প্রশাসন।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রাই বলাবলি করছে, ভোট বড় বালাই। কোথায় মাস্টার প্ল্যান, কোথায় কী। অভিনেতা সাংসদ অভিমানের টের পেয়েই রোববার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লেখা পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, "বিগত ১০ বছর ধরে লোকসভার সকল অধিবেশনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর সপক্ষে সওয়াল করে এসেছি। অনেক চেষ্টার পরও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় এবং এক তৃতীয়াংশ বাজেট (৫০০ কোটি) বরাদ্দ করে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সাল থেকে কাজ শুরু হয়। এই মাস্টার প্ল্যানে ৭৮ কিমি + ৫২ কিমি নদীর ড্রেজিং থেকে শুরু করে বাঁধ, ব্রিজ ,খাল কাটা, খালের সংস্করণ, কৃত্রিম নদী তৈরি করা, জমি অধিগ্রহণ সবই আছে। যার সময়সীমা কমপক্ষে ৪-৫ বছর।"
সাংসদ আরও লিখেছেন, "ঘাটালে বন্যা হওয়ার পর মানুষের অভিমান যথারীতি জনপ্রতিনিধিদের উপরেই হবে। এই দুর্যোগের সময় সরকার এবং প্রশাসন আপনাদের পাশে সব সময় আছে।"
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বন্যাবিধ্বস্ত মানুষদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। সেই কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। সে জন্য দশ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা বাড়ি প্রয়োজনে ভেঙে দিতেও রাজি বলে জানিয়ে দিয়েছেন সেখানকার পুরপ্রধান। এমন সহায়সম্বলহীন পরিস্থিতিতে নতুন করে বন্যা হওয়ায় কপাল চাপড়াচ্ছেন সেখানকার মানুষ। এখন দেখার, সাংসদ দেবের বরাভয় তাঁদের কতটা আশ্বস্ত করতে পারে।