১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পর থেকেই জুন মাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রায় ১০ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশন প্রাপক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 22 June 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পর থেকেই জুন মাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রায় ১০ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশন প্রাপক। কারণ, নবান্নকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ (DA)-এর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে ২৭ জুনের মধ্যে। আর ওইদিনই রথ। সেই রথের চাকা গড়ানোর আগেই কি ডিএ-এর টাকা মিলবে? সময় গুণছেন সরকারি কর্মচারীরা।
ঘটনা হল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (West Bengal Government) দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, বকেয়া ডিএর সবটা মেটাতে ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা খরচ হবে রাজ্যের। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে সেই অর্থের ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মীদের আগামী তিন মাসের মধ্যে দিতে হবে নবান্নকে।
শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকার কী করছে, তা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে। বাকি কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে অগস্টে।
এদিকে, রাজকোষের ঘাটতি মেটাতে আবারও ঋণ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Loan)। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) গত শুক্রবার জানিয়েছে, আরও ৩,৫০০ কোটি টাকা ধার নিতে আগামী ২৪ জুন এসজিবি নিলামে অংশ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।
এই ঋণের মধ্যে ২,০০০ কোটি টাকা ২৫ বছরের মেয়াদি এবং বাকি ১,৫০০ কোটি টাকা ২৬ বছরের মেয়াদি ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলির খরচ মেটাতে এই ঋণ ব্যবহৃত হতে পারে বলে নর্থ ব্লকের কেউ কেউ অনুমান করছেন। তবে রাজ্যের সরকারি কর্মচারি মহলের অনেকের ধারণা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ-র (Pending DA) ২৫ শতাংশ মেটাতেই এক মাসে তিন বার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ঋণ নিতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
রাজ্য সরকার যে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে চলেছে সেই খবর বাংলার সমস্ত সংবাদমাধ্যমের মধ্যে সবার আগে দ্য ওয়ালেই প্রকাশিত হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে সেটাই হচ্ছে। এর আগে জুন মাসের ৩ তারিখ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে বাজারে ঋণপত্র ছেড়ে ২০০০ কোটি টাকা তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার পর গত ১৭ জুন রাজ্য সরকারের সিকিউরিটির (State Government Security) বিনিময়ে আরও ২০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে রাজ্য। এবার ফের ৩৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে। অর্থাৎ জুন মাসে নবান্ন সবমিলিয়ে মোট ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে চলেছে।
বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময়েই রাজ্য সরকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানিয়েছিলেন, এক লপ্তে বকেয়া ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্য সরকারের কোমর ভেঙে যাবে। তা শুনে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, ২৭ জুনের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অন্তত ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০ হাজার কোটির কিছু বেশি টাকা মেটাতেই হবে রাজ্যকে। সেই ধাক্কায় রাজ্যের কোষাগারের কীভাবে কোমর ভেঙেছে তা ঋণ নেওয়ার হিড়িকেই স্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকে।
সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশের কয়েকটি ক্ষেত্রের সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে নবান্নের তরফে ফাইল করা হয়েছে ‘মডিফিকেশন পিটিশন’। কিন্তু বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মাবকাশ চলায় সেই আবেদন আপাতত উঠছে না। আদালত খুলবে জুলাই মাসে। ফলে এই পিটিশন করা হলেও, আইনজ্ঞদের মতে জুন মাসের শেষের আগে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়াটাই একমাত্র পথ রাজ্যের কাছে। এখন দেখার হাতে ২৭ জুন অর্থাৎ রথের চাকা গড়ানোর আগে নবান্ন নির্ধারিত ডিএ-এর টাকা মিটিয়ে দেয় কিনা।