মামলাকারীর দাবি, উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম বা রোল নম্বর থাকলে মূল্যায়নের সময় পক্ষপাতের সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই নাম ও রোল নম্বর—দু’টিই বাদ দিয়ে খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা উচিত।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিকের উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় পরীক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বর গোপন রাখা হোক(Demand to evaluate by keeping names and roll numbers hidden in Madhyamik Examination answer sheets), এই দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court ) দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের অবস্থান জানতে চাইল ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ রাজ্যকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম বা রোল নম্বর থাকলে মূল্যায়নের সময় পক্ষপাতের সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই নাম ও রোল নম্বর—দু’টিই বাদ দিয়ে খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা উচিত। এর জবাবে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, এখনও পর্যন্ত এই ধরনের পক্ষপাতিত্বের কোনও অভিযোগ ওঠেনি। বরং কোনও পরীক্ষার্থী রোল নম্বর লিখতে ভুল করলে, নাম দেখেই তা সংশোধন করা হয়।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আইনজীবীর বক্তব্য, বিগত সাত দশক ধরে স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এই প্রথাতেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কখনও কোনও পরীক্ষার্থী এ নিয়ে অভিযোগ করেনি। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “মূল্যায়নের সময় নাম গোপন রাখার ব্যবস্থা করা কি সম্ভব? এটা নিশ্চয়ই রকেট সায়েন্স নয়!”
এ দিন আদালতে জানানো হয়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতরের। প্রয়োজনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটি গঠনের কথাও ওঠে। যদিও রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, এই বিষয়ে রাজ্যের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত নির্দেশ দেয়, উত্তরপত্র মূল্যায়নের আগে পরীক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বর গোপন রাখা সম্ভব কি না—তা শিক্ষা দফতরকে খতিয়ে দেখে জানাতে হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৩৩ জন এবং ছাত্রী ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০৬ জন। একজন রূপান্তরকামী পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। রাজ্য জুড়ে মোট ২,৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে চলছে মাধ্যমিক—এর মধ্যে ৯৪৫টি মূল কেন্দ্র এবং ১,৭৩৭টি উপ-কেন্দ্র।