এসআইআর ইস্যুতে আগের দিনই সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালের পর তৃণমূল শিবিরে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, বিধানসভায় সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কমিশনের নিয়ম নিয়ে প্রধান বিচারপতির এজলাসে একের পর এক প্রশ্ন তোলার পরদিনই বিধানসভায় ‘কোর্টে জিতি’ মন্তব্য—তাৎপর্য খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে। রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনায় তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এক সময় বিরোধী নেত্রী ছিলেন। কিন্তু সভা-মিছিল করতে তাঁকে কতবার আদালতে যেতে হয়েছিল?
শুভেন্দুর কথায়, “আমি তাঁর সঙ্গেই ছিলাম। তেমন কিছু দেখিনি। অথচ আমাকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ১০৬ বার কোর্টে যেতে হয়েছে।”
এর জবাবেই পাল্টা আক্রমণে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু আদালত নয়, ভোটের ময়দানেও জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিরোধীরা কথায় কথায় কোর্টে যাওয়ার রাজনীতি করছে।
এসআইআর নিয়ে বিএ কমিটির সিদ্ধান্ত বদল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর যুক্তি, যে বিষয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বলে বিধানসভায় আলোচনার অনুমতি দেওয়া হল না, অথচ শাসক দলের একাধিক বিধায়কের বক্তব্যে তা উঠে এল কীভাবে?
বক্তব্যের সময় শাসক শিবির থেকে বাধা এলেও মুখ্যমন্ত্রী নিজেই হস্তক্ষেপ করে বলেন, “আমিও তো বলব।”
বাংলাদেশ সীমান্ত, অনুপ্রবেশ, বিএসএফ-সিআইএসএফের জমি চাহিদা, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ—একটার পর একটা ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, অন্য রাজ্যে বাঙালিদের উপর আক্রমণ হলে বিরোধীরা কোথায় ছিলেন? কেন্দ্রের বকেয়া টাকা না মেটানোর অভিযোগ তুলে দিল্লির ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-কেও আক্রমণ করেন তিনি।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, জল প্রকল্প, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ—সব মিলিয়ে বক্তৃতা জুড়ে ছিল রাজনৈতিক বার্তা। শেষের দিকে আরও তীব্র মমতা, “আপনারা জিরো ছিলেন, জিরো থাকবেন। বাংলা হিরো ছিল, হিরো থাকবে।”



.jpeg)
