হাতে চপ-মুড়ির ঠোঙা, রয়েছে চায়ের কেটলিও। কারণ তাঁদের প্রাপ্য এবং হকের চাকরি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। প্রতীকী এই চিহ্ন নিয়ে পথে নেমেছেন তাঁরা।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 18 December 2025 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিজ্ঞতার নিরিখের ১০ নম্বর এবং শুন্যপদ বাতিল থেকে শুরু করে অরিজিনাল ওএমআর প্রকাশের দাবি উঠে এল এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের (SSC job seekers) মিছিলে। হাতে চপ-মুড়ির ঠোঙা, রয়েছে চায়ের কেটলিও। কারণ তাঁদের প্রাপ্য এবং হকের চাকরি (SSC job) বিক্রি হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদের এই প্রতীকী চিহ্ন নিয়ে পথে নেমেছেন তাঁরা।
এসএসসি-র নিয়োগপ্রক্রিয়ায় (SSC recruitment) অংশ নেওয়া নতুন চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসূচিতে ফের উত্তাল রাজপথ। দাবি উঠেছে, তাঁরা এই প্রথম চাকরির পরীক্ষায় বসেছেন, আগে কখনও কোনও চাকরি করেননি। তাঁদের মধ্যে অনেকে পুরো নম্বরও পেয়েছেন। এদিকে, পুরনো ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদেরই নানাভাবে সুযোগসুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জেরেই নিজেদের প্রাপ্য চাকরি থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ আন্দোলনরতদের।
এই পরিস্থিতিতে কমিশনের শূন্যপদ বৃদ্ধির দাবিতে পথে নামেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্দোলনের একাংশে দেখা যায় চা, চপ ও মুড়ি। মিছিলের মধ্যেই কেউ কেউ কেটলি, চা ও চপ-মুড়ি নিয়ে শামিল হন, প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই।
প্রসঙ্গত, অতীতেও একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী চা কিংবা চপ-ঘুগনি বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজস্ব ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার বার্তা দেওয়া। তবে সেই মন্তব্য বরাবরই বিরোধীদের সমালোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে, নিয়োগ দুর্নীতির কারণে চাকরি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যোগ্যদের চাকরি দিতে না পেরে মুখ্যমন্ত্রী চা-তেলেভাজার দোকান খোলার পরামর্শ দিচ্ছেন—এই অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
এদিন এসএসসি-র চাকরিপ্রার্থীরা শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেন। তাঁদের অভিযোগ, অভিজ্ঞতার জন্য কমিশন অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ায় নতুন পরীক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। সেই কারণেই কেউ কেউ অন্তত আরও এক লক্ষ শূন্যপদ তৈরির দাবি তুলেছেন।
১০ নম্বর অতিরিক্ত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “১০ বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। এখন কমিশন ১০ নম্বর দিয়ে আমাদের বঞ্চিত করল। বেঁচে থাকার জন্য তাই আমাদের হাতে চপ-মুড়ি আর চা।”