এসআইআর ইস্যুতে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যে পরপর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এত মানুষের মৃত্যু হলে তার দায় কি কমিশন এড়াতে পারে?
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 23 January 2026 14:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে (Netaji Subhash Chandra Bose Birthday) শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Govt) ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো দুর্বল করার আশঙ্কা এবং এসআইআর (West Bengal SIR) ঘিরে রাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্মরণ করিয়ে দেন, এক সময় স্বাধীন ভারতের স্বপ্নে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ‘দিল্লি চলো’ ডাক দিয়েছিলেন। সেই দিল্লির সঙ্গেই আজ চক্রান্তের তকমা জুড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, আজকের দিল্লি বারবার ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র হয়ে উঠছে, যেখানে বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে এবং রাজ্যের বিরুদ্ধে একের পর এক পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এসআইআর (West Bengal SIR) ইস্যুতে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যে পরপর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এত মানুষের মৃত্যু হলে তার দায় কি কমিশন এড়াতে পারে? এই ঘটনার পরেও কেন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না - সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
এদিনের বক্তব্যে সংবিধান প্রসঙ্গেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, প্রতিদিনই সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই প্রসঙ্গে তিনি একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন - যদি নামের তথ্যগত গরমিল দেখিয়ে সাধারণ নাগরিকদের নোটিস পাঠানো যায়, তা হলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বও কি রেহাই পেতেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার পথে হাঁটছে। তাঁর মতে, শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, পরিকল্পিতভাবে দেশের ইতিহাসকেও ইচ্ছেমতো বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের পথপ্রদর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর বদলে তাঁদের অবদানকে আড়াল করে এক ভিন্ন ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই প্রবণতা শুধু বাংলার জন্য নয়, গোটা দেশের গণতন্ত্র ও ঐতিহাসিক চেতনাকে বিপন্ন করছে। নেতাজির জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি এই সতর্কবার্তাই দিতে চাইলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।