মমতার অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার পথে হাঁটছে। তাঁর ভাষায়, দেশের ইতিহাসকে ইচ্ছেমতো বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 23 January 2026 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে (Netaji Subhash Chandra Bose Birthday) শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এসআইআর ইস্যুতে (West Bengal SIR) ফের একবার কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কটাক্ষ - নেতাজি আজ জীবিত থাকলে, নামের অসঙ্গতির অজুহাতে তাঁকেও হয়তো এসআইআর শুনানিতে হাজিরা (West Bengal SIR Hearing) দিতে বলা হত।
নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসুকে (Chandra Basu) নির্বাচন কমিশনের নোটিস পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য। প্রসঙ্গত, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, নেতাজির প্রপৌত্রকেও কি নাগরিকত্ব প্রমাণ দিতে হবে? অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। এমন বিতর্কের মধ্যেই কমিশন জানিয়েছে, জমা করা এনুমারেশন ফর্মে ‘লিঙ্কেজ’ অংশ খালি থাকার কারণেই চন্দ্র বসুকে শোনানিতে ডাকা হয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই মমতার (Mamata Banerjee) অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার পথে হাঁটছে। তাঁর ভাষায়, দেশের ইতিহাসকে ইচ্ছেমতো বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের পথপ্রদর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা তো দূরের কথা, বরং তাঁদের অবদানকে আড়াল করে ভিন্ন এক ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার সঙ্গে ভারতের প্রকৃত ইতিহাসের কোনও মিল নেই।
সংবিধান প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিদিনই সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই প্রেক্ষিতেই তাঁর প্রশ্ন - নামের তথাকথিত তথ্যগত গরমিল দেখিয়ে যদি নোটিস পাঠানো যায়, তবে নেতাজির মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বও কি রেহাই পেতেন?
দিল্লিকে ‘চক্রান্তের নগরী’ বলেও আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, একসময় স্বাধীন ভারতের স্বপ্নে নেতাজি ‘দিল্লি চলো’-র ডাক দিয়েছিলেন। আজ সেই দিল্লিই বারবার চক্রান্তের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। বাংলাকে অসম্মান করা হচ্ছে, রাজ্যের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র চলছে, এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
এসআইআর ঘিরে রাজ্যে পরপর মৃত্যুর প্রসঙ্গও এদিন ফের তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর সাফ কথা - এত মানুষের মৃত্যু হলে তার দায় কি কমিশন এড়াতে পারে? কেন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে না?
নেতাজির জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি এদিনের বক্তৃতায় ইতিহাস, গণতন্ত্র ও সংবিধান - এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট ও ধারালো করে তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।