যদিও এক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের (ডিসি সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, পুলিশের অতি তৎপরতার কোনও ব্যাপার নেই। মৃতর পরিবার যেখানে চাইবেন সেখানেই দেহ ময়নাতদন্ত হবে।

মৃত নার্সের পরিবার।
শেষ আপডেট: 15 August 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুরের নার্সিংহোমে কর্মরত নার্সের (Singur Nurse) অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে কলকাতা মেডিকেল কলেজের (Kolkata Medical College) সামনে বিজেপি ও সিপিএমের তুমুল সংঘর্ষের মধ্যেই উঠে এল নতুন অভিযোগ। মৃত নার্সের বাবা সুকুমার জানা সরাসরি পুলিশের (Police) বিরুদ্ধে ‘জোর করে’ দেহ আনার অভিযোগ তুলেছেন।
শুক্রবার দুপুরে শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য নার্সের দেহ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসে পুলিশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুকুমারবাবু বলেন, “আমি চাই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হোক। আমরা চেয়েছিলাম, কেন্দ্রীয় কোনও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হোক, কিন্তু আমাদের না জানিয়ে জোর করে পুলিশ কলকাতা মেডিকেলের মর্গে দেহ নিয়ে এসেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি রাজ্যের হাসপাতালের প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না।”
এই ঘটনায় পুরনো অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ছাত্রীর দেহও এভাবেই দ্রুত ময়নাতদন্ত করানোর অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও এক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের (ডিসি সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, পুলিশের অতি তৎপরতার কোনও ব্যাপার নেই। মৃতর পরিবার যেখানে চাইবেন সেখানেই দেহ ময়নাতদন্ত হবে।তবে যেহেতু অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং পরিবারের তরফে নির্দিষ্ট করে দুটি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশেই ঠিক হবে কোথায় ময়নাতদন্ত হবে।
ডিসি সেন্ট্রাল এও জানান, আপাতত দেহ সংরক্ষণে রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামিকাল শনিবার আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এ ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "পুলিশের এত অতি সক্রিয়তার কারণ কী?" পাল্টা হিসেবে বিজেপি-সিপিএমের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ এনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, "আমরাও চাই একটি বাচ্চা মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। কিন্তু বিজেপি-সিপিএম পরিকল্পিতভাবে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে।"
শুক্রবার দুপুরে মৃতদেহ মেডিকেল কলেজে পৌঁছনোর পরই বিজেপি ও সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হন। মৃতদেহের দখল নিয়ে শুরু হওয়া বচসা হাতাহাতিতে গড়ায়। দুই পক্ষই একে অপরকে তৃণমূলকে রক্ষা করার অভিযোগে নিশানা করেছে। পুলিশ সংঘর্ষ থামিয়ে উভয় পক্ষকে সরানোর চেষ্টা করছে।