শাহের দফতরের চিঠি পেয়েই দার্জিলিংয়ের ডিএম-কে সরিয়ে দিল নবান্ন। সিপির ক্ষেত্রেও কি একই পথে হাঁটবে রাজ্য? কৌতূহল থাকছেই।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু
শেষ আপডেট: 13 March 2026 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক রাজ্য সফরে প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং অনুষ্ঠানের স্থান বদলের অভিযোগে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার (সিপি) সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে শুক্রবারই ডেপুটেশনে চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র (Amit Shah) মন্ত্রক। শাহের দফতরের চিঠি পেয়েই কি এবার দার্জিলিংয়ের ডিএম-কে সরিয়ে দিল নবান্ন! সিপির ক্ষেত্রেও কি একই পথে হাঁটবে রাজ্য? কৌতূহল থাকছেই।
আরও একটা কৌতূহলের ব্যাপার হল, ১৩ মার্চ দার্জিলিংয়ের ডিএম-কে সরানোর যে বিজ্ঞপ্তি সামনে এসেছে, নবান্নের সেই চিঠিতে ১২ মার্চের উল্লেখ রয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শাহের মন্ত্রকের পাঠানো চিঠি আগেই পেয়ে গিয়েছিল নবান্ন! তার জন্যেই কি তাঁকে ওই পদ থেকে অপসারিত করা হল? নাকি, রাষ্ট্রপতির ঘটনার পর নবান্ন আভাস পেয়েছিল, কেন্দ্র সহজে ছাড়বে না! তাই আগেভাগেই মণীশ মিশ্রকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব করা হল। এসব নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েইছে।
ঘটনা হল, গত শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে এসে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। বলেছিলেন, “আমি বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকেই বাংলায় আসতে দেওয়া হয় না।”
জবাবে কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানের কথা জানতেনই না। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফর সম্পর্কে অবহিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা কারা, কী নিয়ে এই অনুষ্ঠান, এ সব নিয়ে তাঁর ধারণাই ছিল না। কিন্তু এখানেই বিতর্ক থেমে থাকেনি। অচিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে মৌখিকভাবেও মমতার সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে।
সেই ক্ষোভের রেশ ধরেই তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। যেখানে একটি-দু'টি নয়, রাষ্ট্রপতির সফরে যে ৫টি ‘গাফিলতি’ শাহের মন্ত্রকের নজর কেড়েছে।
বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবশ্য তৎপর হয়েছিল নবান্ন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে একগুচ্ছ নথি পাঠিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা একটি বেসরকারি সংস্থা হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে কিছু ধোঁয়াশা ছিল। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী কেন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তারও কারণ দর্শানো হয়েছে। তবে নবান্নের এই ব্যাখ্যায় যে দিল্লি সন্তুষ্ট নয়, দুই শীর্ষ আধিকারিককে ডেপুটেশনে তলব করা তারই প্রমাণ।
তবে দার্জিলিংয়ের ডিএম-কে সরিয়ে দেওয়ার আরও একটা কারণ থাকলেও থাকতে পারে। দ্য ওয়াল আগেই লিখেছিল, ভোটের আগে রাজ্য চাইবে না দুই আমলাকে ডেপুটেশনে পাঠাতে। তবে ডিএম মণীশকে সরিয়ে দেওয়াটাও রাজ্যের একটা বার্তা হলেও হতে পারে যে, তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি।