রাজনৈতিক আকচাআকচির মধ্যেই এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। শিলিগুড়ির সিপি সি সুধাকর ও দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 13 March 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের স্থান বদল ও প্রোটকল ভাঙা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu)। এ নিয়ে রাজ্য বনাম কেন্দ্র বিতর্ক চলছিলই। রাজনৈতিক আকচাআকচির মধ্যেই এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। শিলিগুড়ির সিপি সি সুধাকর ও দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নবান্ন সূত্রে খবর, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের মতামত চেয়েছে অমিত শাহের দফতর।
ঘটনা হল, আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার উত্তরবঙ্গে যান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে এলাম। ওরা বলেছিল অনুষ্ঠান করার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এখানে তো ৫ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!’’ তার পর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোটবোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক... কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।’’
এখানেই থামেননি দ্রৌপদী। রাজ্যের আদিবাসী, অনগ্রসর অংশের মানুষজন সরকারি সুযোগসুবিধা পান কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমার দেখে মনে হচ্ছে না, সাঁওতাল সমাজ বা আদিবাসী সমাজের মানুষ সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা পান। আদৌ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পান কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’’
এর বিরুদ্ধে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে পাল্টা আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। দ্রৌপদীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘আই অ্যাম সরি ম্যাডাম। আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়েছেন।’’ রাতে একটি পোস্ট করে মমতা জানান, রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির আয়োজক ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’ একটি বেসকরকারি সংস্থা। তাঁর কর্মসূচির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন সমন্বয় রক্ষা করেছিল। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে জানানো হয়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। তার পরেও কর্মসূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়। শনিবার শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক সকলেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে হাজির ছিলেন। সেখানে কোনও প্রোটোকল বিঘ্নিত হয়নি। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বিজেপি নিজেদের দলীয় উদ্দেশ্য সাধন করতে দেশের সর্বোচ্চ পদকেও ব্যবহার করছে।’’
গত শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।’’
যেহেতু রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে সংশ্লিষ্ট দু'জন আমলা ছিলেন, তাই তাঁদের ডেপুটেশনে চায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। নবান্ন সূত্রে খবর, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের মতামত চেয়েছে অমিত শাহের দফতর। যদিও সূত্রের খবর, এই রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই দুই আমলার মধ্যেই থেমে তাকবে না কেন্দ্র। প্রয়োজনে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজির কাছেও কৈফিয়ত চাইতে পারে শাহের মন্ত্রক। তবে, ভোটের আগে সংশ্লিষ্ট দু'জনকে রাজ্য সরকার ছাড়বে কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন।