স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে কৌতূহল জাগতে পারে, রাষ্ট্রপতির সফরে কী এমন গাফিলতি ধরা পড়েছে, যার জন্য কৈফিয়ত চেয়েছে শাহের মন্ত্রক। দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমানের ইস্যুতে কত দূরই বা যেতে পারে তারা?

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 March 2026 17:51
উত্তরবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা-ত্রুটি নিয়ে দিল্লি ও নবান্নের আকচাআকচি সরাসরি প্রশাসনিক সংঘাত হয়ে উঠেছে। খোদ রাষ্ট্রপতির মুখে ‘অসম্মানে’র কথা শোনার পর বিষয়টি যে হালকাভাবে নেওয়া হবে না, তার ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া পদক্ষেপে। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার (সিপি) সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে ডেপুটেশনে চেয়েছে অমিত শাহের (Amit Shah) মন্ত্রক।
স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে কৌতূহল জাগতে পারে, রাষ্ট্রপতির সফরে কী এমন গাফিলতি ধরা পড়েছে, যার জন্য কৈফিয়ত চেয়েছে শাহের মন্ত্রক। দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমানের ইস্যুতে কত দূরই বা যেতে পারে তারা? সে প্রসঙ্গে আসার আগে ঘটনার ঘনঘটা জানা প্রয়োজন।
গত শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে এসে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। বলেছিলেন, “আমি বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকেই বাংলায় আসতে দেওয়া হয় না।”
জবাবে কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানের কথা জানতেনই না। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফর সম্পর্কে অবহিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা কারা, কী নিয়ে এই অনুষ্ঠান, এ সব নিয়ে তাঁর ধারণাই ছিল না। কিন্তু এখানেই বিতর্ক থেমে থাকেনি। অচিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে মৌখিকভাবেও মমতার সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে।
সেই ক্ষোভের রেশ ধরেই তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতির সফরে যে ৫টি ‘গাফিলতি’ শাহের মন্ত্রকের নজর কেড়েছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন:
বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবশ্য তৎপর হয়েছিল নবান্ন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে একগুচ্ছ নথি পাঠিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা একটি বেসরকারি সংস্থা হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে কিছু ধোঁয়াশা ছিল। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী কেন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তারও কারণ দর্শানো হয়েছে। তবে নবান্নের এই ব্যাখ্যায় যে দিল্লি সন্তুষ্ট নয়, দুই শীর্ষ আধিকারিককে ডেপুটেশনে তলব করা তারই প্রমাণ।
ওই সূত্রেরই খবর, খোদ প্রধানমন্ত্রী যখন এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন, তখন এই সংঘাত কেবল দুই আমলার তলবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর পরবর্তী ধাপে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-কেও কৈফিয়তের মুখে পড়তে হতে পারে।