ডিএ নিয়ে রাজ্য বনাম কর্মীদের এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। সকলের নজর শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকে। এই রায় ঠিক করবে, কর্মীদের আন্দোলন জয়ী হবে, নাকি রাজ্যের আর্থিক যুক্তিই শেষ কথা বলবে!

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 22 September 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA Case) নিয়ে চলা দীর্ঘ মামলায় একধাপ এগোল সুপ্রিম কোর্টের প্রক্রিয়া (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালতে নিজের লিখিত বক্তব্য জমা দিল রাজ্য (West Bengal government)।
রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, আদালতের আগ্রহ ছিল—কোন কোন রাজ্য ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) মানে না। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই রাজ্য লিখিতভাবে জানিয়েছে, প্রায় ১০টি রাজ্য এই সূচক না মেনে ডিএ দেয়।
পাল্টা হিসেবে মামলাকারী সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবী করুণা নন্দী আদালতের কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশের অনুমতি চেয়েছেন। যদিও সুপ্রিম কোর্ট আগেই এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। এখন সেই সময়সীমার মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জমা দিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ।
প্রসঙ্গত, গত ৮ সেপ্টেম্বর ডিএ মামলার শুনানি শেষ হয় সুপ্রিম কোর্টে। রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। তবে জানিয়েছিল, কোনও পক্ষের যদি অতিরিক্ত কিছু বলার থাকে, তা লিখিত আকারে জমা দেওয়া যাবে।
এর আগে, রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই জন্য ছয় সপ্তাহ সময়ও পেয়েছিল রাজ্য। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ডিএ মেটানো সম্ভব হয়নি। এরপর আরও ছ’মাস সময় চেয়ে ফের আবেদন জানায় নবান্ন।
এই মামলার মূল বিষয়—কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। এই মামলায় ২০২২ সালে হাইকোর্ট কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, ডিএ কোনও দয়ার দান নয়, এটি রাজ্য সরকারি কর্মীদের অধিকার। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে আসে রাজ্য।
রাজ্যের বক্তব্য—মহার্ঘ ভাতা বাধ্যতামূলক নয়, এটি মৌলিক অধিকার নয় কর্মীদের। উপরন্তু, কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো এক নয়, তাই কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা চলে না। অন্য দিকে, কর্মচারীদের দাবি—ডিএ দেওয়া সরকারের নীতিগত দায়িত্ব। নির্দিষ্ট সময় অন্তর, বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে ডিএ দিতে হবে। প্রয়োজনে বকেয়া কিস্তিতে দিলেও চলবে।
সব মিলিয়ে, ডিএ নিয়ে রাজ্য বনাম কর্মীদের এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। ফলে সকলের নজর শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকে। এই রায় ঠিক করবে, কর্মীদের আন্দোলন জয়ী হবে, নাকি রাজ্যের আর্থিক যুক্তিই শেষ কথা বলবে!