কলকাতা হাইকোর্ট পেরিয়ে ডিএ মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ৮ সেপ্টেম্বর মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 18 December 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতার (DA Case Verdict) দাবি ঘিরে রাজ্যে নতুন করে উত্তাপ। বৃহস্পতিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বিজনেস কনক্লেভের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) ডিএ প্রসঙ্গে বলেন, “ডিএ দেওয়া ম্যান্ডেটারি নয়। তবুও আমরা প্রতি বছর ১৮ শতাংশ হারে ডিএ দিই।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল সংগ্রামী যৌথমঞ্চ।
দ্য ওয়াল-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (Sangrami Joutho Mancha) আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ডিএ কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দয়ার উপর নির্ভর করে না। সারা দেশ জুড়ে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা মেনেই ডিএ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কী বললেন, তাতে কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হয় না বলেই দাবি তাঁর।
ভাস্করবাবুর কথায়, “এই অধিকার প্রতিষ্ঠার মামলায় আমরা ছ’টি ধাপে জিতে আছি। সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শেষ হয়েছে। রায় ঘোষিত হলেই মুখ্যমন্ত্রী যোগ্য জবাব পেয়ে যাবেন।”
এখানেই থামেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, “ডিএ যদি ম্যান্ডেটরি না-ই হয়, তা হলে ১৮ শতাংশ করে দেওয়া হচ্ছে কেন? এক সময় তো শূন্য করে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার দেওয়া হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর চাই।”
হুঁশিয়ারির সুর আরও তীব্র করে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “একটা কথা পরিষ্কার, ৪০ শতাংশ বকেয়া ডিএ আমরা আদায় করবই। বাণিজ্য মঞ্চ থেকে কী বলা হল, তাতে আমাদের অবস্থান বদলাবে না।”
বিজনেস কনক্লেভের মঞ্চ নির্বাচন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, যেখানে সারা দেশ থেকে শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করতে এসেছেন, সেই মঞ্চ থেকেই কেন রাজ্যের কর্মচারীদের বঞ্চনার বার্তা দেওয়া হল? ভাস্করবাবুর কটাক্ষ, এতে কি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে বাংলায় শ্রম সস্তা, তাই এসে শোষণ করাই যায়?
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট পেরিয়ে ডিএ মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ৮ সেপ্টেম্বর মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। রায় ঘোষণার অপেক্ষায় কর্মচারী মহল। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা আরও ঘনীভূত হল।