পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা (DA Case) মামলার রায় নিয়ে রাজ্যজুড়ে ফের চড়ছে জল্পনার পারদ।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 18 December 2025 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা (DA Case) মামলার রায় নিয়ে রাজ্যজুড়ে ফের চড়ছে জল্পনার পারদ। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ঝুলে থাকা এই মামলার ভবিষ্যৎ কী— তা নিয়ে যখন উৎকণ্ঠা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বিজনেস কনক্লেভের মঞ্চ থেকে ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Chief Minister Mamata Banerjee) মন্তব্য নতুন করে কৌতূহল তৈরি করল কর্মচারী মহলে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিএ দেওয়া ম্যান্ডেটারি না হলেও আমরা প্রতিবছর ১৮ শতাংশ হারে ডিএ দিই।” শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলাকালীন হঠাৎ কেন ডিএ প্রসঙ্গের অবতারণা— তা নিয়েই শুরু হয়েছে নানা মহলে আলোচনা। কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের মতে, এই বক্তব্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।
এদিকে ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে ডিএ মামলা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল বেঞ্চের কোনও কজলিস্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে ১৯ ডিসেম্বর মামলার রায় ঘোষণা হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। আদালতের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে।
আইনজীবীদের একাংশের মত, যদি চলতি সপ্তাহে রায় ঘোষণা না হয়, তবে সুপ্রিম কোর্টের শীতকালীন ছুটির পর— অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আদালত খোলার পর যেকোনো দিন রায় প্রকাশ হতে পারে। উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছিল। সাধারণত রায় রিজার্ভ থাকার এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই রায় প্রকাশের নজির থাকলেও, এক্ষেত্রে তা হয়নি।
মামলার দীর্ঘ যাত্রাপথও কর্মচারীদের হতাশা বাড়িয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একাধিকবার শুনানির দিন পড়লেও, কার্যত শুনানি হয়নি। গত ১৬ মে বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি পি. কে. মিশ্রের বেঞ্চে ম্যারাথন শুনানির শেষে মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
এখন কার্যত ১৯ ডিসেম্বরের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই আশার আলো ক্ষীণ বলেই মনে করছেন অনেকেই। কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনও নিশ্চিত খবর মিললেই তা কর্মচারী ও পেনশনারদের জানানো হবে। আপাতত সবার নজর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেই।