রাজ্যের খাল সংস্কার প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ হলেও, সংস্কারের নামে নির্বিচারে গাছকাটা ও খালের মাটি ‘চুরি’ হচ্ছে— এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 19:10
প্রতীতী ঘোষ, ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুর–কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে বহু পুরনো খাল। গঙ্গার জোয়ার–ভাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জলপথ বদলায়, আশপাশের চাষিদের সেচেরও বড় ভরসা এই খাল। সেই জগদ্দল বিধানসভা এলাকার (Jagaddale ) কাউগাছি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকরাপুর খালকে ঘিরেই শুরু নতুন বিতর্ক।
রাজ্যের খাল সংস্কার প্রকল্পে (Canal Renovation) টাকা বরাদ্দ হলেও, সংস্কারের নামে নির্বিচারে গাছকাটা ও খালের মাটি ‘চুরি’ হচ্ছে, এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা (Farmers protest)।
গ্রামবাসীদের দাবি, সংস্কারের কাজ শুরু হতেই একের পর এক পুরনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। শুধু গাছকাটাই নয়, খালের মাটি (Trees, Government land) তুলতে গিয়ে তা বেআইনিভাবে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে. অভিযোগের আঙুল এক অসাধু চক্রের দিকে।
তাঁদের কথায়, “খাল আমাদের চাষের সহায়। সংস্কার হোক, আমরাও চাই। কিন্তু পরিবেশ নষ্ট করে নয়, গাছ কেটে নয়, মাটি বিক্রি করে নয়।”
স্থানীয়দের দাবি, খালের তীরের গাছগুলি শুধু ছায়াই দেয় না, বর্ষা–বন্যা সামলাতেও ভূমিকা রাখে। গ্রামবাসীদের জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজ, দুইয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে এই সব গাছ। তাই খাল বাঁচাতে ও চুরি রুখতে এ দিন ক্ষোভ উগরে দেন চাষিরা। অভিযোগের কথা বলতে গিয়ে তাঁরা ঘিরে ধরেন উপস্থিত সরকারি আধিকারিককে।

দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে দু’পক্ষের মধ্যে। শেষে আধিকারিকদের আশ্বাসে আপাতত সংস্কারের কাজ বন্ধ রাখা হয়। তাঁদের বক্তব্য, “প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে, এমন আশ্বাস মিলেছে।”
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সংস্কারের নামে এত গাছ কেন কাটা হল, খালের মাটি সত্যিই বিক্রি হয়েছে কি না, প্রশ্নের মুখে এড়িয়েই গিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা, অভিযোগ স্থানীয়দের।