হাসপাতালের কর্মী আকাশ মল্লিক নাকি মর্গে দেহ রাখা ও প্যাকিংয়ের জন্য ২২ হাজার টাকা দাবি করেন, এমনই অভিযোগ অর্পণের।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারাকপুর মহকুমার সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (Sagar Dutta Medical College) ঘিরে ফের উঠল টাকা তোলার অভিযোগ। মর্গে (Morgue) মৃতদেহ রাখা ও প্যাকিংয়ের নামে এক বিশেষভাবে সক্ষম যুবকের কাছে ২২ হাজার টাকা দাবি, চাঞ্চল্য ছড়াল স্বাস্থ্য দফতরে। অভিযোগ জানানো মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, আটক করা হয় অভিযুক্ত সরকারি কর্মীকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার রাতে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় বরাহনগরের বাসিন্দা, সত্তরের কোঠার অর্ণিবাণ রায়ের মৃত্যু হয়। দেহ উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালের মর্গে পৌঁছন মৃতের বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে অর্পণ রায়। সেখানেই হাসপাতালের কর্মী আকাশ মল্লিক নাকি মর্গে দেহ রাখা ও প্যাকিংয়ের জন্য ২২ হাজার টাকা দাবি করেন, এমনই অভিযোগ অর্পণের।
হঠাৎ এত টাকা দাবি শুনে থমকে যান অর্পণ। সরকারি হাসপাতালে কেন অতিরিক্ত অর্থ লাগবে— প্রশ্ন তুলেই তিনি যোগাযোগ করেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রর সঙ্গে। অভিযোগ পেয়েই তৎপর বিধায়ক। তাঁর নির্দেশে তৃণমূল কর্মীরা হাসপাতালে পৌঁছন। খবর যায় কামারহাটি থানায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতির রাশ নিজের হাতে নেয়।
অর্পণের কথায়, “বাড়িতেই বাবার মৃত্যু হয়। দেহ মর্গে রাখা ছিল। ডোমরা নানা অজুহাত দেখিয়ে ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দেহ পাই।”
ঘটনায় ক্ষুব্ধ মদন মিত্র বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এত টাকা খরচ করে আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করেছেন। সেখানে এক কর্মী মর্গে দেহ রাখার জন্য ২২ হাজার টাকা চান, এই প্রথম শুনলাম! আমাদের ছেলেরা গিয়ে বিষয়টি সামলায়।”
স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর দাবি, “বিধায়ক আমাকে পাঠিয়েছিলেন। পুলিশকে জানিয়েছি, সমস্যার সমাধান হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে কেউ টাকা চাইলে তা সরকার বা দলের দায় নয়। এর বিরুদ্ধে (Brokers Gang) সকলের প্রতিবাদ করা উচিত।” অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।