বন দফতর সূত্রে খবর, ধরা পড়া কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 31 July 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুমির (Crocodile) ধরা পড়েছে। তবু আতঙ্কে কুলপির গ্রাম (Kulpi Village)। যদি আবার ফিরে আসে!
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার রামকিশোরপুর গ্রামে। এক গৃহস্থের পুকুরে সাঁতার কাটতে দেখা যায় জলজ হিংস্র প্রাণীটিকে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয়রা, পরে আসে পুলিশ ও বন দফতরের আধিকারিকরাও।
স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম হালদারের পুকুরে প্রথম নজরে পড়ে বিশাল চেহারার কুমির। সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশে ভিড় জমে। বন দফতরের কর্মীরা পুকুর ঘিরে দেন জালে। প্রথমে নাইলনের শক্ত জাল দিয়ে ধরার চেষ্টা করা হয়। জালে ধরা পড়লেও একাধিকবার ফসকে গিয়ে পুকুরের গভীরে গা-ঢাকা দেয় কুমিরটি। রাতের অন্ধকারে অভিযান স্থগিত রাখা হয়।
তবে সমস্যার সূত্রপাত হয় এরপরই। গভীর রাতে কুমিরটি স্থানান্তরিত হয়ে পড়ে যায় পাশের অন্য একটি পুকুরে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। বুধবার সকালেই বন দফতরের আরও অভিজ্ঞ দল এসে ফের খোঁজ শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পরে, দুপুরের দিকে অবশেষে ধরা পড়ে জলজ এই প্রাণীটি।
বন দফতর সূত্রে খবর, ধরা পড়া কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট। সেটিকে আপাতত ভাগবতপুর কুমির প্রকল্পে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাকে হুগলি নদীতে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রামকিশোরপুর পঞ্চায়েত হুগলি নদীর লাগোয়া হওয়ায় সেখান থেকেই কুমিরটি কোনওভাবে গ্রামে ঢুকে পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— যদি এই কুমিরটি ইতিমধ্যে পুকুরে ডিম ছেড়ে দিয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও কি ফিরে আসবে? সেই আতঙ্কেই এখনও ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।