দলের মহিলা নেত্রীর সঙ্গে অশ্লীল চ্যাট ভাইরাল হওয়ার পর প্রাক্তন সাংসদ ও বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী বংশগোপাল চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করল সিপিএম।
3.png.webp)
বংশগোপাল চৌধুরী
শেষ আপডেট: 29 April 2025 00:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের মহিলা নেত্রীর সঙ্গে অশ্লীল চ্যাট ভাইরাল হওয়ার পর কড়া পদক্ষেপ নিল সিপিএম। প্রাক্তন সাংসদ ও বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী বংশগোপাল চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করল সিপিএম। শনিবার রাতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনের সময়। সেসময় দলের এক মহিলা নেত্রী ফেসবুকে পোস্ট করে অভিযোগ করেন, বংশগোপাল তাঁর সঙ্গে মেসেঞ্জার ও হোয়াটস্যাপের মাধ্যমে অশ্লীল বার্তা আদানপ্রদান করেছেন। যদিও সেই সময় বিষয়টি নিয়ে দলীয় অন্দরে কানাঘুষো চললেও প্রকাশ্যে বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শেষমেশ গত রবিবার ব্রিগেড সমাবেশের পর ওই অশ্লীল চ্যাটের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তারপর থেকেই দলের মহিলা কর্মীদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরব হন মুর্শিদাবাদের একাধিক মহিলা কর্মী। অপর্ণা কুমার নামে এক নেত্রীও ওই মহিলা নেত্রীর পোস্ট রিপোস্ট করে বংশগোপালকে ‘চরিত্রহীন’ বলে আক্রমণ করেন। দলের অভ্যন্তরে তীব্র চাপানউতর তৈরি হয়।
এ বিষয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, "বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" যদিও অভিযুক্ত বংশগোপাল নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, দলের ভেতর একটি লবি তাঁর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে। অবশেষে শনিবার রাতে আলিমুদ্দিন সূত্রে জানা যায়, দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বংশগোপাল চৌধুরীকে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মহিলা নেত্রী, যিনি জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর, জানিয়েছেন, তিনি দলের হয়ে নানা সামাজিক কাজ করেন এবং সেগুলি ফেসবুকে পোস্ট করেন। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট মনিটাইজেশন ভেরিফায়েড। প্রথমদিকে বংশগোপাল তাঁর পোস্টে উৎসাহমূলক মন্তব্য করতেন। পরে, অভিযোগ, একদিন মধ্যরাতে বংশগোপাল তাঁকে অশ্লীল বার্তা পাঠানো শুরু করেন।
গত বছর নভেম্বর মাসে মহিলা নেত্রী জেলার সিপিএম নেতৃত্বকে বিষয়টি জানান, কিন্তু তাতে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপর রাজ্য সম্মেলনে বংশগোপালের উপস্থিতির ছবি ভাইরাল হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই মহিলা নেত্রী প্রকাশ্যে আসেন। তিনি লিখেছিলেন, “এই চরিত্রহীন, লোচ্চা, লম্পট কী করে সিপিএম পার্টির রাজ্য সম্মেলনের প্রতিনিধি হয়?”
পোস্টের পর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। সেলিম জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে ঘটনাচক্রে অশ্লীল মেসেজের স্ক্রিনশট ভাইরাল হতে দেরি হয়নি। প্রবল চাপের মুখে শেষপর্যন্ত অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয় সিপিএম।