ওই মহিলার দাবি, ব্যবসা করার জন্য প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার করেছিলেন। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অল্প অল্প করে সুদের টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন। তারপর সেই টাকাটুকুও শোধ করতে না পারায় শুরু হয় চাপ।

শেষ আপডেট: 25 September 2025 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো হাওড়া: ঋণের টাকা শোধ না করতে পারেননি। অভিযোগ, এরই জেরে প্রতিবেশী মহিলাদের হাতে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে জগৎবল্লভপুরের রংমহল এলাকার বাসিন্দা এক মহিলাকে।
ওই মহিলার দাবি, ব্যবসা করার জন্য প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার করেছিলেন। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অল্প অল্প করে সুদের টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন। তারপর সেই টাকাটুকুও শোধ করতে না পারায় শুরু হয় চাপ। অভিযোগ, তাঁকে কিডনি বিক্রি করার জন্যেও চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি হয়েও শেষমেশ কিডনি না বেচে বাড়ি ফিরে আসেন। নির্যাতিতা বলেন, "তারপর থেকেই আরও ঘোরালো হয় পরিস্থিতি। ওদের নির্যাতনে অস্থির হয়ে ছ’মাস আগে স্বামী ও দুই ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হই। এখন অন্য জায়গায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকি আমরা।"
সেখানেও শান্তি মেলেনি। অভিযোগ, রবিবার রাতে কয়েকজন মহিলা তাঁর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। ঘর থেকে টিভি, আলমারি, পাখা-সহ যাবতীয় সামগ্রী লুঠ করে নিয়ে যায়। এরপরেই জগৎবল্লভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা।
অভিযুক্ত এক গ্রামবাসীর দাবি, গত বছর শ্রাবণ মাসে ওই মহিলা ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। মাইক্রোফিনান্স গ্রুপ থেকে ঋণ তুলে প্রতিবেশী তারা রায় তাঁকে টাকা দিয়েছিলেন। এখন তারা রায়কেই প্রতি মাসে ১০,৬০০ টাকা করে গুনতে হচ্ছে। এই ক্ষোভ থেকেই হামলা করা হয় বলে স্বীকার করেছেন তারাও।
বাসিন্দারা জানান, এলাকার বেশ কয়েকজন মহিলা নিজেদের নামে মাইক্রোফিনান্স গ্রুপ থেকে ঋণ তুলে প্রতিবেশীদের দিয়েছেন। এখন তাঁরা ঋণ শোধ করতে না পারায় ওই মহিলাদেরই মাসিক কিস্তি গুনতে হচ্ছে। এরফলেই ক্ষোভ। এবং রাগ ও ক্ষোভেই এই ঘটনা। লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।