মহেশতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্বামী-স্ত্রীর দেহ উদ্ধার। ঘরে মিলেছে ঘুমের ওষুধের একাধিক খালি স্ট্রিপ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 January 2026 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহেশতলার এক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ। ঘটনাস্থল মহেশতলা পুরসভার (Maheshtala Municipality) ১৫ নম্বর ওয়ার্ড (Ward No. 15)-এর কুড়ি ফুট এলাকা (20 Feet Area)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছেন তন্ময় দে ও তাঁর স্ত্রী রুমা রক্ষিত দে।
পুলিশ প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যার অনুমান করছে। ঘর থেকে মিলেছে ঘুমের ওষুধের একাধিক খালি বাক্স। ঋণের চাপ ও আর্থিক অনটনই এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই দম্পতি মোল্লার গেট সংলগ্ন এই আবাসনের তিনতলায় ভাড়া থাকতেন। রবিবার সকাল থেকে ফ্ল্যাটের দরজা না খোলায় প্রথমে সন্দেহ দানা বাঁধে পরিবারের সদস্যদের মনে। বারবার ফোন করা হলেও দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের লোকজনই ফ্ল্যাটে এসে পৌঁছন। কিন্তু দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় তাঁরা ভিতরে ঢুকতে পারেননি। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও শব্দ না পেয়ে তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জিনজিরা বাজার পুলিশ। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায়, শোওয়ার ঘরের খাটের উপর অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তাঁরা। পাশেই ছড়িয়ে ছিল ঘুমের ওষুধের খালি স্ট্রিপ। সঙ্গে সঙ্গে দু’জনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতালে (Behala Vidyasagar Hospital)। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (Unnatural Death Case) রুজু করেছেন তাঁরা। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় স্পষ্ট হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।
পরিবারের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই চরম আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তন্ময় ও রুমা। ঋণের বোঝা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। যদিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্ল্যাটের মালিক অমিত কুমার (Amit Kumar) জানিয়েছেন, দম্পতির মধ্যে কখনও ঝগড়া বা অশান্তির ছবি চোখে পড়েনি। দু’জনেই নিয়মিত কাজে যেতেন এবং খুব স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তাঁদের এমন পরিণতি মানতে পারছেন না আবাসনের বাসিন্দারাও।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিবাহ ছিল। তন্ময় দে-র প্রথম স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন, একই ভাবে রুমা রক্ষিত দে-র স্বামীও প্রয়াত। পরে তাঁরা রেজিস্ট্রি ম্যারেজ (Registered Marriage) করেন এবং একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।