বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়ির বাথরুম থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতর।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2026 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা পুরসভার (KMC) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দপুরের অহল্যানগরে এক বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত বিএলও-র নাম অশোক দাস (৪৭)। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়ির বাথরুম থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতর।
মৃত্যুর পর নতুন করে বিতর্কে ঘি ঢেলেছে একটি অডিও ক্লিপ (Viral Audio Clip)। ভাইরাল হওয়া সেই ক্লিপে অশোক দাসের স্ত্রী এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে দাবি করেছেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় (Ananya Banerjee) এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজু নিয়মিত অশোককে হুমকি দিচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই মানসিক চাপে পড়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অশোক দাস।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে আক্রমণাত্মক হয়েছে বিজেপি। দলের নেতা-কর্মীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এই মৃত্যুর জন্য শাসক দলের চাপকেই দায়ী করছেন। যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সম্পাদক মৌসুমী দাসের অভিযোগ, “কাউন্সিলরের তরফে লোকজন দিয়ে চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, তাঁদের কথামতো না চললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি আমাকে বলেছিলেন, আমার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে— তার ফল কী হবে, তা বুঝে নিতে।”
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “আমার এলাকায় মোট ৫৭টি পার্ট রয়েছে এবং ৫৭ জন বিএলও কাজ করেন। কারও উপর কোনও চাপ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অডিও ভাইরাল করার চেষ্টা করছে। এর কোনও বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই। এটা পুরোপুরি ষড়যন্ত্র।”
এ দিকে, তৃণমূলের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার এই ঘটনার দায় ঘুরিয়ে কেন্দ্রের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং অদূরদর্শী এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরেই ওই বিএলও চরম মানসিক চাপে পড়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
পরিবারের তরফে যদিও আরও সংযত প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে। মৃত অশোক দাসের দাদা তাপস দাস জানান, “মানসিক চাপ যে ছিল, সেটা বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।”
অস্বাভাবিক এই মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক তরজার মাঝেই এখন নজর তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকে।