আদালত জানিয়েছে, ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যদি কেউ আবেদন করতে চান, তাহলে করতে পারেন, তবে ওবিসি ক্যাটাগরি ব্যবহার করা যাবে না।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 July 2025 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলায় বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে চাঞ্চল্যকর মোড়। আবেদনকারীরা আপাতত সাধারণ ক্যাটাগরিতে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন বলে জানিয়ে দিল আদালত। তবে ওবিসি ক্যাটাগরিতে ফর্ম জমার অনুমতি দেওয়া হল না। রাজ্যের হলফনামাও তলব করল আদালত।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে এদিন দীর্ঘ শুনানি চলে। মামলাকারীদের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী এম আর শামশাদ জানান, ৩ এপ্রিল ও ১৭ এপ্রিলের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, উপযুক্ত প্রার্থীরা পূর্ব ক্যাটাগরিতে ফর্ম পূরণ করতে পারেন এবং যারা পূর্বে পরীক্ষায় বসেছিলেন, তাঁদের বয়সে ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ‘স্টেট ইজ ফ্রি টু অ্যাকমোডেট হিয়ার অ্যান্ড দেয়ার’, কিন্তু বাস্তবে আবেদন করতে গেলে ওবিসি-র জন্য যোগ্যতার মান বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অনেকের নেই। ৪৫ শতাংশের বদলে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ শতাংশ, যা অনেকে পূরণ করতে পারছেন না।
বিচারপতি জানান, “ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের ওবিসি তালিকা ও তার ক্যাটাগরিক ক্লাসিফিকেশন নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সেই নির্দেশ অমান্য করা যাবে না। তাই ওবিসি হিসেবে আবেদন সম্ভব নয়। তবে ৩০ মে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্য হলে জেনারেল ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন।”
স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজ্য ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি (স্পেশাল লিভ পিটিশন) দায়ের করেছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী মঙ্গলবার ওই মামলা শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও স্থগিতাদেশ (স্টে) দেওয়া হয়নি।
কমিশনের বক্তব্য, ১৭ জুনের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১০ সালের আগের ওবিসি তালিকাভুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না এবং আবেদনপত্র ক্যাটাগরি অনুযায়ী গ্রাহ্য করা চলবে না। রাজ্যও জানিয়ে দিয়েছে, ২০১২ সালের আগের তালিকা মেনে চলা যাবে না। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষা করাই একমাত্র পথ।
আদালত জানিয়েছে, ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যদি কেউ আবেদন করতে চান, তাহলে করতে পারেন, তবে ওবিসি ক্যাটাগরি ব্যবহার করা যাবে না। একইসঙ্গে তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট বেঞ্চে যেতে পারবেন।
এই মামলার জট ছাড়াতে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় প্রশাসন এবং আবেদনকারীরা। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, “সুপ্রিম কোর্টের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ মানতে হবে। কোনও কাট অফ ডেট নির্ধারিত না হলেও, সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন সেই নির্দেশকে প্রভাবিত করতে পারে।”