অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বেলডাঙায় মসজিদ নির্মাণ ঘিরে পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে ইতিমধ্যেই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সূচনার কথা থাকলেও মঙ্গলবার থেকেই কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 11 February 2026 19:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) নাম ঘিরে নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক দানা বাঁধল। হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে সরব হল রাষ্ট্রীয় অল্পসংখ্যক আরক্ষণ মোর্চা। মঙ্গলবার ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সংগঠনের সভাপতি হযরত মোহাম্মদ পারভেজ সিদ্দিকি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাবরি মসজিদের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যে (West Bengal) অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, অতীতে এই ইস্যু ঘিরে দেশজুড়ে সংঘর্ষ ও দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই নতুন করে এমন আবেগঘন ইস্যু উস্কে দেওয়া উচিত নয়। অভিযোগকারীর বক্তব্য, চাইলে অন্য নামে মসজিদ নির্মাণ করা যেত, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বাবরি প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বেলডাঙায় মসজিদ নির্মাণ ঘিরে পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে ইতিমধ্যেই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সূচনার কথা থাকলেও মঙ্গলবার থেকেই কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) জানিয়েছেন, এটি শুধুই একটি স্থাপত্য নির্মাণ নয়, বরং ইতিহাস ও আবেগের প্রতিফলন। গত ৬ ডিসেম্বর লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতেও নেতৃত্বে ছিলেন হুমায়ুন। তারপর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। জানা গিয়েছে, কয়েক কোটি টাকা চাঁদা তুলে নির্মাণকাজ এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, গত ৪ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করে। এর পরেই তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা না পেরে প্রশাসনিক শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে সুপারি কিলার নিয়োগের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। পরিকল্পিতভাবে তাঁর গাড়িকে দুর্ঘটনার কবলে ফেলে প্রাণনাশের চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন বলে দাবি করে আসছেন হুমায়ুন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত তাঁর আবেদন বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেয়।
সব মিলিয়ে, মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।