মাদক মামলায় নাম জড়িয়ে বিপাকে পড়েছেন হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর। প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে চলেছে পুলিশ।

হুমায়ুন কবীর (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 10 February 2026 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার ভোট-হাওয়ায় যাঁরা বারবার শিরোনামে উঠে আসছেন, তাঁদের তালিকায় সামনের সারিতেই থাকছেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। নতুন দল গঠন থেকে শুরু করে জোট-সমীকরণ—রাজনৈতিক সরগরমের মাঝেই এবার বিপাকে পড়েছে হুমায়ুনের মেয়ের শ্বশুরবাড়ি। বহুদিনের পুরনো মাদক মামলায় অভিযুক্ত সেই পরিবারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (Attachment) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই পরিবারের বিরুদ্ধে রয়েছে পুরনো একাধিক এনডিপিএস (NDPS) মামলা। ২০২৫ সালের মার্চের এক মাদক মামলায় হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই আদালতের অনুমতি মেলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে করার। নির্দেশ মিলতেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। সোমবার সকালে তাঁদের বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশবাহিনী।
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ১০টি জায়গায় ওই পরিবারের সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। লালগোলা-সহ (Lalgola) মোট ১৭টি জায়গায় সম্পত্তি রয়েছে হুমায়ুনের মেয়ের শ্বশুরের নামে। জেলা পুলিশ সুপার (Superintendent of Police) পরিষ্কার জানিয়েছেন—যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, কিংবা মাদক কারবারের টাকা লুকিয়ে রেখেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, জেলার ভিতরে মাদক বা মাদকজাত কোনও অবৈধ ব্যবসা চলবে না; কেউ করলে ছাড় দেওয়া হবে না।
এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলকে (TMC) কাঠগড়ায় তুলেছেন হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানা (Najma Sultana)। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) চক্রান্ত। টার্গেট হচ্ছে আমার বাবাকে। এবার বাবাকে না পেরে এবার আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত।” তাঁর দাবি, শ্বশুর কোনও খারাপ কাজে যুক্ত নন। স্বামী একজন ব্যবসায়ী। ফলে এসবের মানেই হয় না।
অন্যদিকে, বিজেপি (BJP) অভিযোগ তুলেছে—মাদক কারবার তৃণমূলেরই প্রয়াস। তাঁদের বক্তব্য, এতদিন হুমায়ুন তৃণমূলে ছিলেন, তাই বিষয়টি চাপা ছিল। এখন তিনি বেরিয়ে যাওয়ায় লোক দেখানো অভিযান চলছে।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা পুরনো মামলা। অর্ডার কোর্টের। অনেকদিন ধরে মামলাটি চলছে। এখন ভিকটিম কার্ড খেলে লাভ হবে না। হুমায়ুন বিদ্রোহী হওয়ার পর তো আর এসব হয়নি।”
চূড়ান্ত ভোটমুখী বাংলায় রাজনৈতিক তাপমাত্রা এমনিতেই তুঙ্গে। তার মধ্যে এই মাদক মামলার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘটনা ফের নতুন করে রাজনৈতিক তরঙ্গ তুলেছে জেলার রাজনীতিতে।