তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় সরকারই মিলিতভাবে এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খিদিরপুরে (Khidirpur) ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে আচমকাই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বুধবার দুপুরের সেই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, কয়েক জন তাঁর গাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। কারও হাতে ছিল হকি স্টিকও। পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে হাতের বাইরে যেতে পারত বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অনুগামীরাই তাঁর পথ আটকান এবং পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করেন। যদিও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই হুমায়ুনের নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে বৃত্ত তৈরি করেন। তাঁদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থল ছাড়েন হুমায়ুন।
প্রসঙ্গত, এর আগে এদিন এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister Mamata Banerjee) সওয়ালকে ঘিরে সোশ্যাল মাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবীর। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “মুখোশ খুলে গিয়েছে। বাংলার মানুষ আর নাটক দেখতে চায় না।”

তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় সরকারই মিলিতভাবে এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। যাঁরা এতদিন ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাই এখন ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নতুন ‘নাটক’ শুরু করেছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
হুমায়ুন আরও লেখেন, বাংলার মানুষ কি এতটাই বোকার? দিনের পর দিন বঞ্চনা, আর শেষ মুহূর্তে সহানুভূতির অভিনয়—সবই সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছে। সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের ভোটের জন্যই তাঁদের কথা মনে করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার পবিত্র মাটি থেকেই এই রাজনীতির উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “বিচার হবে জনতার দরবারে।”
ওই পোস্টের কিছু পরেই খিদিরপুরের বিক্ষোভের মুখে পড়েন হুমায়ুন। তবে এ ব্যাপারে শাসকদলের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।