সরাসরি কটাক্ষ নয়, বরং তির্যক ইঙ্গিতের ভাষায় কেন্দ্র ও বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 17:01
গঙ্গাসাগরের (Gangasagar) শিলান্যাস মঞ্চ যেন পরিণত হল রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চে। সরাসরি কটাক্ষ নয়, বরং তির্যক ইঙ্গিতের ভাষায় কেন্দ্র ও বিজেপিকে (BJP) নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister Mamata Banerjee)। সোমবার তাঁর মন্তব্য, “এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। মনে রেখো বন্ধু, এখানে তুমি কামড়াতে এলে এমন কামড় খাবে… মাথাটাকে টাইট করে দেবে, কোমরটাকেও টাইট করে দেবে।”
ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতির (West Bengal Election) মঞ্চে এমন কড়া শব্দচয়ন বিরল নয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে যেন আরও একবার স্পষ্ট হল বাংলা রাজনীতিতে তৃণমূলের ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থান। নাম না করেই বিজেপিকে তোপ দাগলেন তিনি।
এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসআইআর হোক, তবে হাতে সময় নিয়ে দু'বছর ধরে এই কাজ করা হোক। কিন্তু যেভাবে তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা হয়েছে তাতে ৭০ থেকে ৮০ জনের আতঙ্কে মৃত্যু, আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে।
সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর সতর্কবার্তা, “মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করলে — আপনারাও ভ্যানিশ হয়ে যাবেন।”
গঙ্গাসাগরে মুড়ি গঙ্গা সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠান সেরে মুখ্যমন্ত্রী যান ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে। সেখানে মহারাজের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে ঘিরে সমর্থনের বার্তাও শোনা যায়। সঙ্ঘের তরফে জানানো হয়— “দিদির সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।” গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে সওয়ালও শোনা যায় সেখান থেকে।
মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা সুর, “আমি আর আবেদন করতে যাব না। জনগণের আদালতেই গঙ্গাসাগর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।”
এখানেই মহারাজদের সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারেন, এসআইআর এর নাম করে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সাধুদের নামও নাকি কাটা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "গঙ্গাসাগরে অন্যায় হচ্ছে। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সাধুদের নামও কেটে দিয়েছে। মাস্টার যা নির্দেশ দিচ্ছে, কমিশন তাই পালন করছে। এটা চলতে পারে না।"
গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের দাবি— স্থায়ী সেতু। কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ আগেও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্নও তুলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশের কুম্ভ যদি ‘জাতীয় মেলা’, তবে গঙ্গাসাগর নয় কেন?
২০২৩–এ সাগরের মাটিতেই ঘোষণা করেছিলেন তিনি, “চাতক পাখির মতো অপেক্ষা নয়, সেতু বানাবে রাজ্যই।” নানা বাধা, টেন্ডার, অনুমোদনের পর অবশেষে এ দিন শিলান্যাস। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২–৩ বছরের মধ্যেই তৈরি হবে সেতু।
এ দিনই ঘোষণা, মেলায় আগতদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বীমা, ৯ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগের মতো ‘ট্যাক্স’ বন্ধ হওয়ার কথাও স্মরণ করালেন তিনি।