গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে স্থায়ী সেতুর দাবি বহু দিনের। এ নিয়ে কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ আগেও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন তুলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশের কুম্ভমেলা যদি ‘জাতীয় মেলা’–র মর্যাদা পায়, তবে কোটি মানুষের বিশ্বাসে গঙ্গাসাগর মেলা কেন নয়?
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিনের দাবির অবসান। তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় মানুষের স্বপ্নের মুড়িগঙ্গা সেতুর (4-lane Muriganga Bridge , Gangasagar) সোমবার শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে, ৪.৭৫ কিমি দৈর্ঘ্যের চার লেনের এই সেতু তৈরি এখন সময়ের অপেক্ষা।
পৌষ সংক্রান্তির আগে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার সাগরদ্বীপ পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। মেলা–পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেন তিনি। পরে সরকারি অনুষ্ঠানে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পাশাপাশি মুড়িগঙ্গা সেতুর শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমরা শুধু মুখে বলি না। কাজে করে দেখাই। হাজারও প্রতিকূলতা রয়েছে এখানকার মানুষের। তাই এই সেতু নির্মাণ জরুরি ছিল।"
সেতু নির্মাণ হলে একদিকে যেমন স্থানীয় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে তেমনই দেশব্যাপী পর্য়টকদের জন্যও সুবিধা হবে। সময়, খরচ সবই বাঁচবে।
বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ২০১১ সালের আগে পরিকাঠামো ছিল অত্যন্ত খারাপ। তখন বলা হত, লোডশেডিংয়ের সরকার, আর নেই দরকার। সেই সরকারও আর নেই, আর বাংলায় কখনও লোডশেডিংও হবে না। মনে রাখবেন, আমরা ক্ষমতায় এসে এখানকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে মেলার দিনগুলিতে ধাারাবাহিকভাবে মন্ত্রীরা থাকেন। নবান্ন থেকেও মনিটরিং করা হয়।
সম্প্রতি নিজের সাড়ে ১৪ বছরের উন্নয়নের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারিভাবে যার নাম দেওয়া হয়েছে, উন্নয়নের পাঁচালি। যার কাউন্টার করে বিজেপির তরফে পাল্টা ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এদিনের সভা থেকে ওই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ওদের কুৎসায় আমার কিছু আসে যায় না। আমি কিছু বলব না। আমার হয়ে কথা বলবে, কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তারা। কারণ, তোমরা বাপুরা শুধু ভোটারের নাম কাটো। উন্নয়নের ছিটেফোঁটা অর্থও দাও না।"
সম্প্রতি গঙ্গাসাগর সফর করেছিলেন বিরোধী দলনেতা। এদিন নাম না করে সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, "যাঁরা বলে গেল কয়েকদিন আগে, যাঁরা মিথ্যাবাদী, যাঁরা মিথ্যাবাদী লগ্নে জন্মগ্রহণ করে, তাদের তো সত্যবাদী বলা যায় না। অত্যাচার, ব্যাভিচার নিয়ে ওরা ভাল থাকুক। আমি কারও খারাপ চাই না।"
এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্র-কমিশনকে নিশানা করে মমতা এও বলেন, এসআইআর হোক বছর দুয়েক সময় নিয়ে। গায়ের জোরে করতে গিয়ে ৭০-৮০ জন মারা গেছে। আরও বহু মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। হেয়ারিংয়ের নামেও হেনস্থা করা হচ্ছে। আপনার মাকে ৮৫ বছর বয়সে টেনে নিয়ে গেলে কী উত্তর দিতেন?
মৎস্যজীবীদের সমস্যা নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "এখানকার মৎস্যজীবীরা কখনও কখনও ওপারে (বাংলাদেশে) যায় আর জেলে আটকে পরে থাকে। আমরা ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। তোমরা (বিজেপি) কিছুই করো না,বাবুরা শুধু ভোটের সময় আসে।"
ভোটের সময় বিজেপি অনেক কিছু চটকদারি করে বলে সতর্ক করে মমতা বলেন, আমাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার টুকলি করে ইলেকশনের সময় ১০ হাজার, আর ইলেকশন চলে গেলেই বুলডোজার! ওদের এই বুজরুকি অচল করে দিতে হবে।"
গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে স্থায়ী সেতুর দাবি বহু দিনের। এ নিয়ে কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ আগেও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন তুলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশের কুম্ভমেলা যদি ‘জাতীয় মেলা’–র মর্যাদা পায়, তবে কোটি মানুষের বিশ্বাসে গঙ্গাসাগর মেলা কেন নয়?
দিল্লি সাড়া না দেওয়ায় ২০২৩ সালে সাগরের মাটিতেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, “চাতক পাখির মতো অপেক্ষা নয়, সেতু বানাবে রাজ্যই।” তার পরেই শুরু হয় টেন্ডার ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া। নানা বাধা পেরিয়ে এ বার শিলান্যাস হল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এই সেতু তৈরি হয়ে যাবে।
মুড়িগঙ্গা পারাপারের অনিশ্চয়তা দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা। এখনও ভেসেলের উপরেই নির্ভরতা, জোয়ার–ভাটায় মাঝেমধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাগরদ্বীপ।
সেতু তৈরি হলে, যাতায়াত হবে দ্রুত ও সুরক্ষিত। গঙ্গাসাগরের সঙ্গে স্থায়ী যোগাযোগ গড়ে উঠবে। তীর্থযাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই মিলবে স্বস্তি। সরকারি সূত্রের দাবি, সেতু চালু হলে মুড়িগঙ্গা আর ‘বাধা’ নয়, গঙ্গাসাগর যুক্ত হবে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগে।