"এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। মনে রেখো বন্ধু এখানে তুমি কামড়াতে এলে এমন কামড় খাবে, মাথাটাকে টাইট করে দেবে, কোমরটাকেও টাইট করে দেবে।"
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর–এর নামে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ফের সুর চড়িয়ে সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গঙ্গাসাগর মেলার মঞ্চ থেকে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বিরুদ্ধে ফের ‘অশুভ আঁতাত’–এর অভিযোগ তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “কমিশন এখন নাকি হোয়াটসঅ্যাপে চলছে! হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নিয়েছে নাকি—কে জানে! তবে এই জিনিস আমরা বরদাস্ত করব না।”
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে রাজ্য সরকার, “আগামীকাল কোর্ট খুলবে, আমরা আদালতে যাচ্ছি। প্রয়োজনে আমিও নিজে সুপ্রিম কোর্টে প্লিড করব (Will appeal to court if necessary to protect people's rights)। একজন আইনজীবী হিসাবে নয়, একজন সাধারন মানুষ হিসাবে যাব। আমি সাধারণ মানুষের কথা বলতে যাব।”
এখানেই না থেমে বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, "এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। মনে রেখো বন্ধু এখানে তুমি কামড়াতে এলে এমন কামড় খাবে, মাথাটাকে টাইট করে দেবে, কোমরটাকেও টাইট করে দেবে।"
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গায়ের জোরে তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে বহু মানুষের মৃত্যু ও আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “হিয়ারিংয়ের নামে মানুষের হেনস্থা করা হচ্ছে। আপনার মা যদি ৮৫ বছর বয়সে টেনে নিয়ে যায়—তখন কী উত্তর দিতেন?”
সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। অভিযোগ করেন, “দিল্লির এক বড় নেতা বলেছেন—লক্ষীদের ভোটের দিন বেরোতে দেবেন না। এটা কি ক্রিমিনাল অফেন্স নয়?”
তারপরই জবাবি হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, “আমি বলি—তুমি বাংলার লক্ষীদের চেনো না। আঘাত করলে পাল্টা প্রত্যাঘাত হবে।”
মমতার দাবি, ৫৪ লক্ষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, অথচ তাঁদের ৭ নম্বর বা ৮ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার অধিকার ছিল। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা, “মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করলে—আপনারাও ভ্যানিশ হয়ে যাবেন”।
নাম না করেই কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘দুর্যোধন–দুঃশাসনের প্রবণতা’–র সঙ্গে তুলনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে সতর্কবার্তা, “ভোটের মুখে বাংলায় অশান্তি পাকানোর ছক হচ্ছে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা হচ্ছে—কোথাও টুক করে গণ্ডগোল করা যায় কি না। একটু কিছু হলেই চিৎকার শুরু করবে!”
এ ব্যাপারে প্রতিটি এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি। মমতার কথায়, "মনে রাখবেন, ওদের অচল করতে হবে। তাই কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।"