সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় শহর কলকাতা কার্যত জলের তলায়। মঙ্গলবার সকালে যারা অফিসের জন্য বেরিয়েছিলেন তারা পড়েছিলেন মহা বিপদে।

চন্দ্রনাথ সিনহা
শেষ আপডেট: 23 September 2025 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার (Prison minister Chandranath Sinha jailed) অন্তর্বর্তী জামিন খারিজের আবেদন জানিয়েছিল ইডি (ED)। গত শনিবার এই মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখে আদালত। জানানো হয়, মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ দুপুর দুটোয় চূড়ান্ত রায়দান হবে। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহায় হল রাজ্যের মন্ত্রীর। রায়দান একদিন পিছিয়ে গেল।
সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় শহর কলকাতা (Kolkata) কার্যত জলের তলায় (Waterlogged)। মঙ্গলবার সকালে যারা অফিসের জন্য বেরিয়েছিলেন তারা পড়েছিলেন মহা বিপদে। জমা জলের কারণ রাস্তাঘাটে বাস-গাড়ি স্তব্ধ হয়ে গেছিল। তার মধ্যে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবরে আরও আতঙ্ক ছড়ায়। এই পরিস্থিতির কারণেই বিচারভবনে কোনও মামলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবীরা। আসেননি বিচারকও। তাই মামলার কোনও শুনানি হয়নি। তবে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টায় রায় শোনাবেন বিশেষ ইডি আদালতের বিচারক।
আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন বিপুল সম্পত্তি, তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রভাবশালী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে। গত শুনানির দিন আদালত থেকে বেরোনোর সময় তাঁর বিরুদ্ধে ইডির আনা প্রভাবশালী তত্ত্ব খারিজ করে মন্ত্রী বলেছিলেন, "আমি প্রভাবশালী নই।" তিনি তদন্তে কোনও ধরনের অসহযোগিতা করেননি বলেও দাবি করেন। আইনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছেন বলেও জানান।
যদিও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment Corruption Case) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন চন্দ্রনাথ। ২০১৬ সালের শেষের দিকে বিপুল অঙ্কের টাকা নগদে নিয়েছিলেন তিনি।
ইডি আদালতে জানায়, ২০২৪ সালে বোলপুরে মন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪১ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল। অভিযোগ, তার নির্দিষ্ট কোনও হিসেব দিতে পারেননি চন্দ্রনাথ। আয়কর রিটার্নের নথিও সময়মতো জমা দেননি। তবে গত ৬ অগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল হওয়ার পরই তড়িঘড়ি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রী নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে মাত্র ১৯ লক্ষের হিসেব দেখান তিনি।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ১৯ লক্ষ টাকার উৎসও স্পষ্ট নয়। কৃষি কাজ ও রিয়েল এস্টেট থেকে টাকা এসেছে বলে দাবি করলেও তার সপক্ষে কোনও নথি দেখাতে পারেননি মন্ত্রী। ইডির অভিযোগ, শুধু মন্ত্রী নন, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের অ্যাকাউন্টেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দিতেই প্রথম উঠে আসে মন্ত্রীর নাম। এরপর চন্দ্রনাথের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে একাধিক বড়সড় লেনদেনের হদিস পায় ইডি।